রাজধানীর পল্লবীতে ৬০ বছর বয়সী এক গৃহবধূকে পিস্তল ঠেকিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, বাড়ি দখল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাসেল, ইব্রাহিম, শাহীন, নশাদ ও অমিতসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী আছিয়া (৬০)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, পল্লবীর সেকশন-১২, ব্লক-ই, পূর্ব কুর্মিটোলা তোতা মিয়ার বস্তি এলাকায় আছিয়ার বসতবাড়ি রয়েছে। পাশাপাশি মিরপুর-১১ নম্বর রাবেদা ক্যাম্প এলাকাতেও তাঁর একটি বাড়ি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব বাড়িকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এজাহারে রাসেলকে স্থানীয়ভাবে কথিত ‘ভইরা দে’ গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আশিককে ওই গ্রুপের প্রধান বা নেতা এবং রাসেলসহ অন্যদের তাঁর অনুসারী হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৪ আগস্ট বিকেলে রাসেল, ইব্রাহিম, শাহীন, নশাদ ও অমিতসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আছিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা না দিলে রাবেদা ক্যাম্প এলাকার বাড়ি জবরদখল এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই দিন বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে অভিযুক্তরা পুনরায় দলবদ্ধ হয়ে আছিয়ার ঘরে প্রবেশ করে চাঁদার টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাসেল পিস্তল বের করে তাঁকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তাঁর সহযোগীরা আছিয়াকে ধাক্কা দিয়ে দেয়ালের সঙ্গে ফেলে দেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
আছিয়ার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
স্থানীয়দের দাবি, পল্লবী ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে কথিত ‘ভইরা দে’ গ্রুপের নাম বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে।
ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন আছিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।