সাতকানিয়া সংবাদদাতা

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের হামলায় এক যুবক নিহত হয়েছে। তার নাম মুহাম্মদ শাহাদাত (৩০)। গত রোববার রাত ১১টার দিকে উপজেলার সাতকানিয়া রাস্তার মাথা এলাকায় এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সোমবার ভোররাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

নিহত শাহাদাত উপজেলার উত্তর ঢেমশা ইউনিয়নের মাইজপাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি মৃত মোহাম্মদ শফিকুর রহমানের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত মুখ ছিলেন।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানিয়েছেন, হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে একাধিক টিম কাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে সাতকানিয়া মডেল মসজিদের সামনে একটি চায়ের দোকানে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন শাহাদাত। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ দুই থেকে চারটি মোটরসাইকেল এবং একটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে ১০ থেকে ১৫ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী সেখানে এসে উপস্থিত হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শাহাদাতের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা শাহাদাতকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে সন্ত্রাসীদের ধরার চেষ্টা করলে তারা অস্ত্র উঁচিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে গুরুতর আহত শাহাদাতকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তীতে সেখান থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সোমবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহতের বড় ভাই মোবারক হোসেন বলেন, “আমার ছোট ভাই রাস্তার মাথায় একটি চায়ের দোকানে বসে ছিল। হঠাৎ একদল সন্ত্রাসী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে তার ওপর হামলা চালায়। তারা আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”

সাতকানিয়া থানার ওসি মঞ্জুরুল হক বলেন, “রাস্তার মাথায় এক যুবককে কয়েকজন মুখোশধারী পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছি। আমরা এখনো এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে কারা এ হামলার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকা-ের পেছনে পূর্বশত্রুতা, আধিপত্য বিস্তার কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্তে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজও চলছে।

এদিকে, এ হত্যাকা-ের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। হত্যার নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।