সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে টাস্কফোর্সকে আরও ৬ মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি ফাতেমা নজীব এবং বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে এ দিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি জানান, এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন করতে আরও সময় প্রয়োজন।

পরে আদালত তদন্ত শেষ করতে আরও ৬ মাস সময় দেন। আদালতে বাদীপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে টাস্কফোর্সকে ছয় মাস সময় দেন হাইকোর্ট। সেদিন আদালত বলেছিলেন, শেষবারের মতো সময় দেওয়া হলো। এই ৬ মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতেই হবে।

২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কার্যক্রম থেকে র‌্যাবকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানকে আহ্বায়ক করা হয়।

টাস্কফোর্সের অন্য তিন সদস্য হলেন পুলিশ সদর দপ্তর ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ থেকে অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন করে দুজন এবং র‌্যাব থেকে পরিচালক পদমর্যাদার একজন।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার এবং মেহেরুন রুনি খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত করেন শেরেবাংলা নগর থানার এক কর্মকর্তা। একই সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তভার পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমের ওপর।

পরে ওই ঘটনার দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব)। এদিকে এ মামলার বাদী পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আইনজীবী শিশির মনিরকে নিযুক্ত করা হয়।

২০১২ সালে হত্যাকা-ের পর তদন্ত ও আসামি গ্রেফতার নিয়ে জনস্বার্থে রিট করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। সেই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি জারি করা রুলে সাগর-রুনি হত্যাকা-ের খুনিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট।