২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার (OHCHR) এবং জাতিসংঘের স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তৎকালীন হাইকমিশনার ন্যাভি পিল্লাই (Navi Pillay) এবং জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকরা (Special Rapporteurs) বিচার প্রক্রিয়ার গুরুতর ত্রুটি ও রায়-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে পৃথক পৃথক বিবৃতি প্রদান করেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয় সাফ জানিয়ে দেয় যে, সাঈদীর পুরো বিচার প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনি প্রক্রিয়া এবং ফেয়ার ট্রায়াল (Fair Trial) নীতিমালার অনেক শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আসামিপক্ষের সাক্ষী ও আইনজীবীদের যথাযথ নিরাপত্তা দিতে না পারা এবং বিচারিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
জাতিসংঘ যেকোনো পরিস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড প্রদানের নীতিগত বিরোধী। সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর হাইকমিশনারের কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে জোরালো আহ্বান জানানো হয়, যেন এই রায় কার্যকর করা না হয়। জাতিসংঘের বিশেষ পর্যবেক্ষকদের দল হুশিয়ারি দেয় যে, একটি ত্রুটিপূর্ণ বিচার প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে জামায়াত-শিবির কর্মী এবং সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের ওপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও নির্বিচার গুলি চালনার তীব্র নিন্দা জানায় জাতিসংঘ।
হাইকমিশনার ন্যাভি পিল্লাই বাংলাদেশ সরকারকে অত্যন্ত সংযম প্রদর্শনের এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানান।
রায়-পরবর্তী সহিংসতায় শতাধিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন কমিশন গঠনের জন্য তৎকালীন সরকারের প্রতি তাগিদ দেওয়া হয়।
২০১২ সালের শেষভাগে ফাঁস হওয়া ট্রাইব্যুনালের বিচারকের 'স্কাইপ কেলেঙ্কারি' এবং আইনি অসদাচরণের বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলেন, রায়ের পেছনে বিচারিক নিরপেক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। এই অবস্থায় তড়িঘড়ি করে ফাঁসির আদেশ দেওয়া বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।