চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেছেন, প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্র নিজেদের বাংলাদেশের বন্ধু দাবি করলেও তারা চায় এ দেশের মেধাবী মানুষ, সরকার ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা তাদের কাছে মাথা নত করে থাকুক এবং বাংলাদেশ গোলামির শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকুক।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাটোরের লালপুর-বাগাতিপাড়া উপজেলার যৌথ আয়োজনে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফারাক্কা বাঁধের প্রসঙ্গ টেনে চাকসু ভিপি রনি বলেন, দেশে যখন বন্যা বা অতিবৃষ্টি থাকে না, তখন হঠাৎ করে বাঁধের পানি ছেড়ে দিয়ে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত করা হয়। আবার যখন সেচের জন্য পানির প্রয়োজন হয় এবং দেশের নদ-নদী শুকিয়ে যেতে থাকে, তখন উজানে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখা হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। এ দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলমানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছে। এই সম্প্রীতির বন্ধনই বাঙালি জাতিকে শক্তিশালী করেছে। এ জাতির ঐক্য ও শক্তির কাছে শুধু প্রতিবেশী রাষ্ট্র নয়, বিশ্বের পরাশক্তিরাও পরাজিত হতে বাধ্য।

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ইসলাম কখনো কঠোর নীতিতে বিশ্বাসী নয়; বরং মধ্যপন্থা অবলম্বনের শিক্ষা দেয়। পোশাকের শালীনতা বজায় রেখে নারীরা দেশের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না; মেধার পাশাপাশি নৈতিকতা, সততা ও দেশপ্রেমকে ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। একটি আদর্শ সমাজ ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সময়ের সঠিক ব্যবহার করে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি নৈতিক চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একটি জাতির প্রকৃত উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোগত অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে না; বরং শিক্ষিত, দক্ষ ও নৈতিক প্রজন্মই একটি জাতির মূল শক্তি। আজকের কৃতি শিক্ষার্থীদের আগামী দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেওয়ার উপযোগী হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়। একই সঙ্গে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।

অনুষ্ঠান শেষে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের হাতে ফুল, সম্মাননা স্মারক, বই ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, স্থানীয় সুধীজন, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাগাতিপাড়া থানা শিবিরের সভাপতি হাফেজ শাহিন আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, নাটোর জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, বাগাতিপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা এ কে এম আফজাল হোসেন, নাটোর জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু সাঈদ রনি এবং লালপুর উপজেলা শিবিরের দায়িত্বশীলরা।