চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের চৌগাছা পৌরসভা, নাগরিক সেবা যেখানে সোনার হরিণ! বছরের পর বছর সেবা বঞ্চিত নাগরিকরা জিম্মি হয়ে পড়েছে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে। কেউ দায় নিচ্ছে না অনিয়মের। চৌগাছা পৌরসভা ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। নতুন হলেও দ্রততম সময়ের মধ্যে লাইম টাইমে চলে আসে চৌগাছা পৌরসভা। নির্মিত হয় নতুন পৌরভবন। গ্রাম থেকে পাড়া মহল্লায় নির্মিত হয় পাকা সড়ক, ড্রেন আর সড়কের পাশে বসানো হয় ঝলমলে আলোর স্ট্রিট লাইট। চৌগাছার মানুষ পৌরসভা পেয়ে খুশি হয় খুব। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সেই পৌরসভা হয়ে পড়েছে একটা অর্থব প্রতিষ্ঠান। সড়ক বাতির ৮০ ভাগই অচল। রাতে পরিনত হয় ভুতুড়ে নগরীতে।
সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা। সংস্কার হয় না বছরের পর বছর। বাসাবাড়ি থেকে ময়লা নেওয়া এনজিও লাপাত্তা। নেই কাজকর্ম তাই গল্প গুজবে সময় কাটাচ্ছেন পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারিরা। কোন কর্মচারি কখন আসে আর কখন যায় তার কোন হিসাব রাখে না কেউ। পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ টাকার যানবাহন আর যন্ত্রপাতি । ইজারাদারদের যোগসাজসে তিন কোটি টাকার হাট ইজারা দেওয়া হয় এক কোটিরও কম টাকায়। সবমিলিয়ে চৌগাছা পৌরসভা এখন জৌলুসবিহীন প্রতিষ্ঠান। জানতে চাইলে চৌগাছা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রহমান বলেন, চৌগাছা পৌরসভা অত্যান্ত অল্প সময়ের মধ্যে নাগরিক সেবা প্রদানে শ্রেষ্টত্য অর্জন করেছিল কিন্ত বর্তমানে খুবই খারাপ অবস্থা। তিনি আরো বলেন নাগরিক সেবা বন্ধ থাকলেও ট্যাক্স তোলা হচ্ছে নিয়মিত। অর্থাৎ নাগরিকদের মরার উপর খাড়ার ঘা। পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাবুল আক্তার বলেন, বাসা থেকে ময়লা নেওয়ার জন্য নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও নিয়মিত তারা ময়লা নিয়ে যায়না।তিনি বলেন বিষয়টি নিয়ে আমি পৌর সচিব মোশাররফ হোসেন এবং পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিএম এ মুনিবের সাথে কথা বলেও কোন ফল পাইনি। পৌরসভার উত্তর প্রান্তে বসবাসকারী পাশাপোল কলেজের প্রভাষক আজিজুর রহমান বলেন,আমি প্রতিদিন উত্তর প্রান্ত থেকে শুরু করে দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে বের হয়ে আমার কলেজে যায় পুরো পৌর এলাকার সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চৌগাছা প্রেসক্লাব মোড়ের চায়ের দোকানদার ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমি পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডে বসবাস করি। আমি প্রতিদিন আমার বাড়ি থেকে দোকানে আসি প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক। সম্পূর্ণ রাস্তাটার বেহাল অবস্থা। গণমাধ্যম কর্মি আসাদুজ্জামান মুক্ত চৌগাছা শহরে বসবাস করেন। তিনি বলেন পৌরসভার রাস্তারও যে অবস্থা সড়ক বাতিরও সেই একই অবস্থা সবই প্রায় অচল। পৌরসভার একটি সুত্র জানায় পৌরসভায় পরিবহন ট্রাক আছে ৬ টা,ভেকু ট্রাক ২টা, স্কেভেটর ১টা, ময়লা পরিস্কার করা গাড়ি ১টা, বড় রোলার ১ টা এবং ছোট রোলার আছে ১টা। এসব যানবাহন ও যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন যাবত ব্যবহার না করার ফলে কোন কোনটা অকেজো হয়ে গেছে আর কোনটা অকেজো হওয়ার পথে। এদিকে মশা তাড়ানোর ফগার মেশিন ব্যবহার না করার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মেহবুব হুসাইন নয়ন তাকে কেউ চেনেন না। টিকা সরবরাহ না থাকায় সুপারভাইজার ও ৩ জন টিকাদানকারীর কোন কাজ নেই। বিদ্যুৎ মিস্ত্রি ও লাইনম্যান দুজনই আছেন রাজকীয় হালে অথচ সারা শহর প্রায় অন্ধকার। নাগরিক সেবা ঠিকমত না থাকায় ট্যাক্স আদায়কারীরা ঠিকমত ট্যাক্স আদায় করতে পারে না। পৌরসভার দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর ও সাবেক প্যানেল মেয়র মাষ্টার কামাল আহমেদ বলেন,চৌগাছা পৌরসভা অল্পদিনে যে সুনাম অর্জন করেছিল সেটা এখন ধুলোয় মিশে গেছে। এক কথায় চৌগাছা পৌরসভা এখন নামে তালপুকুর কিন্তু ঘটি ডোবেনা অবস্থা। তিনি দ্রুত এ অবস্থার নিরসন দাবি করেন। সাবেক পৌর মেয়র ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার বলেন, শহরে ঠিকমত আলো না থাকায় শহরে প্রতিনিয়ত চুরি হচ্ছে। যার ফলে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তিনি দ্রত শহরের লাইটগুলো মেরামতের দাবি জানান।
পৌরসভার কার্যক্রমে অচলাবস্থা বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি এম এ মুনীব বলেন, আমি নতুন এসেছি পৌরসভার নাগরিক সেবা বৃদ্ধি করতে চেষ্টা করছি আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে।