কুষ্টিয়ার খোকসা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী রবিন রায়হান জসিমের ছোট ভাই ও সিঙ্গাপুরপ্রবাসী নাসির উদ্দিন শেখকে ফুলের শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনায় খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশারফ হোসেনের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সিঙ্গাপুর থেকে একটি হেলিকপ্টারে খোকসা-জানিপুর পাইলট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন নাসির উদ্দিন শেখ। এ সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের এমন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।

নাসির উদ্দিন শেখ খোকসা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমলাপুর রুমীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি খোকসা পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং আসন্ন খোকসা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী মো. রবিন রায়হান জসিমের ছোট ভাই।

জানা গেছে, সিঙ্গাপুর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর নিজ এলাকায় দ্রুত পৌঁছাতে একটি হেলিকপ্টার ভাড়া করেন নাসির উদ্দিন শেখ। পরে হেলিকপ্টারটি তাকে নিয়ে খোকসার উদ্দেশে রওনা হয়ে দুপুরের দিকে জানিপুর পাইলট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অবতরণ করে। তার সঙ্গে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী আরও দুই ব্যবসায়ী অংশীদার ছিলেন বলে জানা গেছে।

হেলিকপ্টার অবতরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই বিদ্যালয় মাঠের আশপাশে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। দুপুরে হেলিকপ্টার অবতরণের পর শত শত মানুষ সেটি দেখতে ভিড় করেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন।

এ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হেলিকপ্টার থেকে নামার পর নাসির উদ্দিন শেখকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। ভিডিওতে খোকসা থানার ওসি মোল্লা জাকির হোসেন ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশারফ হোসেনকেও ঘটনাস্থলে দেখা যায়।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, নাসির উদ্দিন শেখ বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো মামলা বা নির্ভরযোগ্য নথি পাওয়া গেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, একজন রাজনৈতিক পদপ্রার্থীর নিকটাত্মীয়কে সরকারি দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হলে তা পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

তবে ফুলেল শুভেচ্ছা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খোকসা থানার ওসি মোল্লা জাকির হোসেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, “এ ধরনের ব্যক্তিকে আমরা ফুল দিতেও পারি না। দিইও নাই। যাদের লোক তারাই ফুল দিয়েছে। আমরা নিরাপত্তার জন্য গিয়েছিলাম। তখন ওনারাই তদন্ত কর্মকর্তাকে ফুল দিয়েছে।” এরপর তিনি ফোনটি কেটে দেন।

এ বিষয়ে মেয়র পদপ্রার্থী রবিন রায়হান জসিম বলেন, “ওসি কাউকে ফুল দেননি। ফুল পড়ে যাচ্ছিল কাদার মধ্যে। সেটা উনি ধরাধরি করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “বাড়িতে একটি দোয়া অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে আমার ভাই ও কয়েকজন বিদেশি এসেছেন।”

অন্যদিকে, ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আগে ভালো করে জানা হয়নি। পরে বিস্তারিত বলছি।”

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে প্রকৃতপক্ষে পুলিশ কর্মকর্তারা শুভেচ্ছা জানাতে ফুল দিয়েছেন, নাকি নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।