কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: ইরি-বোরো চাষে খরচ বেড়েছে। ডিজেল, সার, বীজ, চারা, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৩ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। চাষ হয়েছে ১৩ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে। কাজিপুর উপজেলায় ১২ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ইরি-বোরো ধান চাষ করা হয়। এসব জমিতে ব্রি ধান-২৯, ব্রি ধান-৫৮, ব্রি ধান-৮৮, ব্রি ধান-৮৯, ব্রি ধান-৯২ জাতের ধান চাষ করা হয়। নতুন করে পরীক্ষামূলক কিছু জমিতে ব্রি ধান-১০০ ও ব্রি ধান-১০২ চাষ করা হয়েছে। এ বছর খরচ বাড়ার কারণে এ উপজেলার কৃষকরা অন্য ফসল চাষের দিকে বেশি ঝুঁকেছেন। এদিকে শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। পাশাপাশি কীটনাশক, বীজ, সার ও ডিজেলের দাম বাড়ায় গত বছরের তুলনায় বিঘাপ্রতি দুই হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে বলে জানান কৃষকরা।

কালিকাপুর গ্রামের কৃষক শামসুল হক বলেন, ১০ বছর ধরে ইরি ধানের চাষ করি। গত বছর চার বিঘা জমিতে চাষ করেছিলাম। আর এ বছর ৩ বিঘা জমিতে চাষ করেছি। এ বছর খরচ একটু বেশি তাই একটু কমিয়ে দিয়েছি। নিজের কোনো জমি নাই অন্য লোকের জমি টাকা দিয়ে রেখে তারপর চাষাবাদ করতে হয়।

গান্ধাইল গ্রামে রাকিব হাসান বলেন, আমি লেখাপড়ার পাশাপাশি আমার বাবাকে কৃষি কাজে সহযোগিতা করি। এ বছর আমরা কোনো ফসলে তেমন টাকা পাইনি তাই বেশি ধান চাষ করতে পারিনি। সার, ডিজেল ও শ্রমিকের দামটা বেশি। গত বছর যে চারা ৪০০ টাকায় পাওয়া গেছে সেই চরার দাম এ বছর ৭০০-৮০০ টাকা।

বাদশা মিয়া বলেন, আমি ৫ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। গত বছর ৪ বিঘা জমিতে চাষ করেছিলাম। তাতে সারা বছরের খাওয়ার ধান রেখে ভালো লাভ হয়েছিল। এ বছর প্রতি বিঘায় ২-৩ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, জেলায় ইরি-বোরো ধান চাষ একটু দেরিতে হয়। তবে গত বছরের চাইতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষকরা একটু ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।