কুষ্টিয়ায় এমপি মুফতি আমীর হামজা ওপর হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখা।
রোববার দুপুরে জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ে এ সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা নায়েবে আমীর কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হুসাইন, কুষ্টিয়া সদর আসনের এমপি মুফতি আমীর হামজা, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি খায়রুল ইসলাম রবিন, মমিন বিশ্বাসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সাংবাদিক সম্মেলন পরিচালনা করেন জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি এনামুল হক।
সাংবাদিক সম্মেলনে জামায়াতের নেতৃবৃন্দ মুফতি আমীর হামজার ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুফতি আমীর হামজা বলেন, সামনে উপস্থিত সাংবাদিক ভাইয়েরা আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। গতকাল আমার ওপর যে ন্যাক্কার জনক ও জঘন্য হামলা চালানো হয়েছে, তা কুষ্টিয়াবাসী তথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার জন্যই আজকের এই জরুরী সংবাদ সম্মেলন।
গতকাল আমার নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও সাধারন মানুষের খোঁজখবর নিয়ে ফিরে আসার সময় গণ অধিকার পরিষদের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা আমার গাড়িবহরে এক বর্বর ও অতর্কিত হামলা চালায়। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা বা সাধারন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছিল না। এটি ছিল গণ অধিকার পরিষদের সন্ত্রাসীদের এক পূর্বপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা। শান্ত কুষ্টিয়াকে অশান্ত করা এবং আমার গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমূলক কার্মকান্ডকে নস্যাৎ করার হীন উদ্দেশ্যেই তারা এ ছক কষেছিল।
একজন জনপ্রতিনিধি এবং আলেম হিসেবে জনগনের নিরাপত্তায় কাজ করাই আমার দায়িত্ব। কিন্তু যারা রাজনীতির নামে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালায়, প্রকাশ্যে একজন সংসদ সদস্যের ওপর পরিকল্পিতভাবে আঘাত হানার দুঃসাহস দেখায়, তারা সমাজের শত্রু, কুষ্টিয়াবাসীর শত্রু।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আমার সুস্পষ্ট দাবী ও হুঁশিয়ারি, সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, এই পূর্বপরিকল্পিত হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত গণ অধিকার পরিষদের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে।
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: সিসি টিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের স্বাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা: স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক চাপমুক্ত হয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
আমি কুষ্টিয়া-৩ আসনের সর্বস্তরের জনগণকে ধৈর্য ও শান্তি বজায় রাখার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। তবে মনে রাখবেন, আমাদের এই ধৈর্যকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবেন। যদি প্রশাসন অবিলম্বে এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনে, তবে কুষ্টিয়ার শান্তিকামী জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে এর কড়া জবাব দেওয়া হবে।