কিশোরগঞ্জের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আজ ১৬ আগসট রোববার কিশোরগনজ জেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রস্তাব তুলে ধরেছেন প্রবীণ সম্পাদক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ধর্ম ও সমাজতত্ত্ববিদ, কিশোরগঞ্জ আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আতাউর রহমান খানের জ্যেষ্ঠ পুত্র, ৯০ দশকের জনপ্রিয় বই আফগানিস্তানে আমি আল্লাহকে দেখেছি বইয়ের লেখক, দৈনিক ইনকিলাবের নির্বাহী সম্পাদক, কিশোরগঞ্জের কৃতি সন্তান, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী।

এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কিশোরগঞ্জের সড়ক ও রেল যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পাশাপাশি হাওরাঞ্চলের পর্যটন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে দেওয়া প্রস্তাবে মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী বলেন, কিশোরগঞ্জের মানুষের জন্য মৌলিক ও দীর্ঘমেয়াদি এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এর সুফল ভোগ করবে।

সাত দফা প্রস্তাবের প্রথমটিতে কিশোরগঞ্জকে ঢাকা-সিলেট ৮ লেন ন্যাশনাল মাল্টিপারপাস মহাসড়কের সঙ্গে ভৈরব ও ইটাখোলা হয়ে দুটি ৬ লেন সড়কের মাধ্যমে সংযুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। এতে কিশোরগঞ্জের সঙ্গে রাজধানী ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডরের যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে ভৈরব বাজার রেলস্টেশনের আগে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রেললাইনের পশ্চিম অংশে ‘ভৈরব বাজার হল্ট’ নামে নতুন একটি দ্বিমুখী যাতায়াতের রেলস্টেশন নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। এতে ইঞ্জিন ঘোরানোর প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে ট্রেন চলাচল আরও সহজ ও কার্যকর করার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মত দেওয়া হয়।

তৃতীয় প্রস্তাবে গফরগাঁও থেকে হোসেনপুর-যশোদল-মরিচখালী হয়ে বালিখলা পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। প্রস্তাবদাতার মতে, এ রেলপথ বাস্তবায়িত হলে ভাটি বাংলার সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চল, বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

চতুর্থ প্রস্তাবে হাওরাঞ্চলের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কিশোরগঞ্জ-ইটনা-অষ্টগ্রাম-মিঠামইন সদরের মধ্যে একটি ত্রিমুখী উড়াল সড়ক নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। ধানিজমির ক্ষতি কমাতে পিলার, গার্ডার ও র‌্যাম্পনির্ভর উঁচু অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি বর্ষার পানির স্বাভাবিক প্রবাহ, মাছের অভয়ারণ্য এবং নৌযান চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পুরো জেলাকে একটি অভিন্ন সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় এনে পরিকল্পিত হাওর পর্যটনের বিকাশ ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পঞ্চম প্রস্তাবে কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদীর পশ্চিম অংশের প্রতিবন্ধকতা দূর করে নদীটিকে ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে পুনঃসংযুক্ত করা এবং খননের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে কিশোরগঞ্জের নৌযোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত হয়ে শহরটি আবারও ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়িক মোকাম বা ‘গঞ্জ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

ষষ্ঠ প্রস্তাবে কিশোরগঞ্জের স্থানীয় ভূ-প্রকৃতি, কৃষি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিল্প স্থাপনের লক্ষ্যে একটি আঞ্চলিক পণ্যভিত্তিক ইপিজেড নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। এতে স্থানীয় শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

সপ্তম প্রস্তাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে বহুমাত্রিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের বিপুল জনশক্তিকে দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারে আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ সাতটি বড় প্রকল্পের পাশাপাশি কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগসহ জেলার প্রতিটি খাতে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ এবং নিয়মিত উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জের প্রতি বিশেষ মনোযোগ ও ভালোবাসার মাধ্যমে এসব দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে তা জেলার মানুষের কাছে স্থায়ীভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও দীর্ঘ কর্মময় জীবন কামনা করেন।

মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী নিজেকে কিশোরগঞ্জের উন্নয়ন ও কল্যাণকামী লাখো সাধারণ মানুষের একজন হিসেবে উল্লেখ করে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে সরকারের সদয় বিবেচনা ও কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।