ফেসবুকে উস্কানিমূলক স্ট্যাটাস দিয়ে মুফতি আমীর হামজা এমপির বাড়ির সামনেই গণ-অধিকার পরিষদের নেতা কর্মীরা সমাবেশ করে। এদের সাথে ছদ্মবেশে যোগ দেয় আওয়ামীলীগের ক্যাডার ও ছাত্র দলের নেতাকর্মীরা। ওই সমাবেশ থেকে জামায়াত-শিবির ও মুফতি আমীর হামজা এমপির বিরুদ্ধে চরম কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছিলেন গণ-অধিকার পরিষদের ক্যাডাররা। ঠিক ওই সময়ই কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মুফতি আমির হামজা বাসায় ফিরছিলেন। আমীর হামজার গাড়ি দেখা মাত্রই গনঅধিকার পরিষদের ক্যাডাররা লাঠিশোটা ও অস্ত্র নিয়ে মুফতি আমীর হামজার গাড়ীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। গাড়ীতে হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাংচুর করে। এ সময় হামলা করে গাড়ীতে থাকা মুফতি আমীর হামজার চাচাকে রক্তাক্ত জখম করে। আমীর হামজাকেও মাথায় আঘাত করে আহত করে।

পুলিশের উপস্থিতিতেই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটলেও তারা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুষ্টিয়া শহরস্থ ৬ রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া শহরে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। গণ-অধিকার পরিষদ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। প্রতিবাদে জামায়াতের নেতৃবৃন্দও প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল করে।

স্থানীয়রা জানায়, কুষ্টিয়া ছয় রাস্তার মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিল গণধিকার পরিষদ। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মুফতি আমীর হামজার উপর হামলা করতেই তারা মুফতি আমীর হামজার বাড়ির সামনে এ সমাবেশ করে।

সম্প্রতি মুফতি আমির হামজা এক বক্তব্যে বলেন, আমি কুষ্টিয়া সদরের এমপি। সরকার কাজ দিলে আমার মাধ্যমেই দিবে। আমি কাজ করছি আর কৃতিত্ব নেবে অন্যজন।

আমি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন বিভাগ চালু করেছি। সড়ক উন্নয়নে প্রায় ৩০০ শত কোটি টাকা বরাদ্দ আসছে। এটা হামজারই কৃতিত্ব। হামজা কাজ করে আর নাম হয় ফেরেস্তার।

জনগণের প্রতি আহবান রেখে মুফতি আমীর হামজা বলেন, কে কি বললো আপনারা সেদিকে কান দিবেন না। কুষ্টিয়া সদরের এমপি আমীর হামজা। হামজাই কুষ্টিয়া সদরের প্রধানমন্ত্রী। তার হাতেই উন্নয়ন হবে, হচ্ছে।

তার এই বক্তব্যকে ঘিরে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা চরম ট্টল করতে থাকে। তারাও হামজার প্রতি বিষোদগার করতে থাকে।

একদিকে গণঅধিকার পরিষদ অপরদিকে বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা চরম বিতর্ক সৃষ্টি করে।

এরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে কুষ্টিয়া শহরে গনঅধিকার পরিষদের সমাবেশে।

স্থানীয়রা জানায়, গণ-অধিকার পরিষদের সমাবেশে খোকসা কুমারখালী থেকে আওয়ামীলীগের ক্যাডার ও সরকারি কলেজ থেকে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীরাও অংশ গ্রহণ করেন।

মুফতি আমির হামজার গাড়ি ৬ রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে তারাই গাড়িতে অতর্কিত হামলা করে। এতে জামায়াতের ইসলামীর ৭ জন আহত হয়।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দিকে হরিনারায়ণপুরে প্রোগ্রামে ছিলাম। রাস্তাঘাট কালভার্ট কোথায় কোনটা করতে হবে সেই তথ্য নিচ্ছিলাম। আমি ২০ তারিখে মন্ত্রণালয়ে যাব সেজন্য। এ সময় খবর পাই আমার বাবা-মা তুলে আমাকে গালাগালি করছে। আমি সদর থানার ওসিকে কল দেই। তার গাড়ি আগে এবং আমার গাড়ি পেছনে ছিল। এ সময় অতর্কিতভাবে আমার গাড়িতে লাঠি-হকিস্টিক দিয়ে হামলা করা হয়।

প্রশাসনের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। গণধিকার পরিষদের আব্দুল খালেক ও তৌকিরের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমি এ বিষয়ে মামলা করেছি।

উল্লেখ্য যে, মুফতি আমীর হামজার পেছনে এক শ্রেণির ব্যক্তিবর্গ সব সময় আদাজল খেয়ে লেগেছে। তার প্রতিটি কাজ ও কথাবার্তা নিয়ে সাধারণ মানুষকে উস্কে দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই ঘটনার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন অনেকে।

এ ঘটনায় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা আমীর খন্দকার একে এম আলী মুহসীন, সেক্রেটারী এনামুল হক, কুষ্টিয়া জেলা নায়েবে আমীর কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হুসাইনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সেই সাথে দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।

অপরদিকে, এ ঘটনায় কুষ্টিয়া শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাতেই দুটি দল বিক্ষোভ মিছিল করেছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষনা দেওয়া হয়েছে।