কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরের কঙ্কাল কবর থেকে তুলে দরবার প্রাঙ্গণে পুনরায় সমাধিস্থ করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কবর থেকে তুলে নেয়া দেহাবশেষ পুনরায় আগের কবরস্থানে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান।

তিনি বলেন, পীরের কয়েকজন ভক্ত রাতে কবর থেকে তার দেহাবশেষ তুলে দরবার প্রাঙ্গণে সমাধিস্থ করেন। খবর পেয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। পরে তাদের হস্তক্ষেপে দেহাবশেষ পুনরায় কবরস্থানে কবরস্থ করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ১১ এপ্রিল উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে পবিত্র কুরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভন্ড পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ময়নাতদন্ত শেষে নানা নাটকীয়তার পর দক্ষিণ-পশ্চিম কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

এতে জামায়াতের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দেওয়া হয়। জামায়াত নেতা খাজা আহমেদসহ কয়েকজন জেলও খাটেন।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম নৈরাজ্যের সৃষ্টি করে কিছু দুস্কতকারীরা। সাধারণ মানুষ হয়রানিরও শিকার হন।

উল্লেখ্য যে, ভন্ড শামীম বাবা ইসলামের নামে এলাকায় অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। কোরআন অবমাননা করে ইসলাম ধর্ম বিরোধী কাজ করতে থাকেন। মানুষ মারা গেলে ঢাক ঢোল পিটিয়ে লাশ দাফন করেন। সে নিজেকে নবী রাসূল দাবী করেন।

এসব কর্মকাণ্ডে কুষ্টিয়া আদালতে হক্কানী দরবারের পরিচালক খালিদ হাসান সিপাহী একটি মামলা করেন। ওই মামলায় শামীম জেলও খাটেন।

পরে জেল থেকে বেরিয়ে আবার পুনরায় বিভিন্ন অপকর্ম করতে থাকলে এলাকায় মুসলমানদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এতে বিক্ষুব্ধ জনতা শামীমের আস্তানা পুড়িয়ে দেয়। বেদম মারধর করে ভন্ড পীর শামীমকে। এতে সে মারা যায়।

পরে তার লাশ নিয়ে শামীমের ভক্তরা দাফন নিয়ে নোংরা রাজনীতি শুরু করে। মাজারে দাফনের চেষ্টা করলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে লাশ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করে। এরপর থেকেই শামীমের ভক্তরা বিভিন্ন সময়ে লাশ উত্তোলনের চেষ্টা করে। এলাকাবাসী সজাগ থাকায় তা ব্যর্থ হয়।

অবশেষে শামীমের ভক্তরা কবর থেকে দেহাবশেষ তুলে দরবারে নিয়ে দাফন করে। এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সেখানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দ্বন্দ্ব সংঘাত এড়াতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।