জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে যশোরে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে শহরের জিরো পয়েন্ট কোর্ট মোড়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন। সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য গণমিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমীর ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দলের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল তরুণ সমাজ ও আপামর জনগণের সম্মিলিত সংগ্রাম। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের প্রায় ১৬ শ তরুণ জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের আন্দোলনে বিএনপি ও বিভিন্ন ইসলামী দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম, নির্যাতন ও ফাঁসির শিকার হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

যশোরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে ১১ দলীয় ঐক্যের বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিল

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমীর ও যশোর-৪ আসনের এমপি গোলাম রসুল।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের দুই বছর অতিক্রম হলেও গণহত্যার জন্য দায়ীদের বিচার এখনো দৃশ্যমান হয়নি। অবিলম্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।

অধ্যাপক গোলাম রসুল আরও বলেন, বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য, দলীয়করণ ও দুর্নীতি পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে গণভোটে জনগণের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, শামসুজ্জামান ও মনিরুল ইসলাম, জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের, জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান, জেলা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সহ-সম্পাদক মুফতি রাশেদুজ্জামান, জেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশেম রেজা, যশোর শহর শিবিরের সভাপতি উবাইদুল্লাহ হুসাইন, শহর জামায়াতের আমীর মাওলানা ইসমাইল হোসেন এবং সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর আশরাফ ও সেক্রেটারি আব্দুল হক।

সমাবেশটি পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রেজাউল করিম। পরে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিশাল গণমিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।