গাজীপুরের শ্রীপুরে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে বাম পা হারানো কাঁঠাল ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্রীপুর উপজেলা শাখা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁর বাড়িতে গিয়ে শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহযোগিতা করেন।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দৈনিক সংগ্রামের অনলাইন সংস্করণে ‘৪ আগস্টের গুলিতে এক পা হারিয়ে পঙ্গু শ্রীপুরের কাঁঠাল ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর শনিবার সকাল ৮টার দিকে শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ হেলাল উদ্দিনের বাড়িতে যান।
এ সময় তাঁরা হেলাল উদ্দিনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তাঁকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্রীপুর উপজেলা শাখার আমীর মাওলানা মো. জাহাঙ্গীর কবির, নায়েবে আমীর ডা. মো. জসীম উদ্দিন, বরমী ইউনিয়ন আমীর মাওলানা মো. আমিনুল ইসলাম, বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আ. মতিন এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী শেখ আজিজুল হক।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গুলিবিদ্ধ হন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সোহাদিয়া গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী কাঁঠাল ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন। ওই দিন ট্রাকে করে নোয়াখালী যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাঁর বাম পা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে কাঁঠালের ব্যবসা করে সংসার চালাতেন হেলাল উদ্দিন। পা হারানোর পর বন্ধ হয়ে যায় তাঁর ব্যবসা। কর্মক্ষমতা হারিয়ে আয়ের পথ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার পেছনে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় হওয়ায় বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছে তাঁর।
নিজের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে হেলাল উদ্দিন বলেন, “একটি গুলি শুধু আমার পা নেয়নি, আমার জীবনটাই থামিয়ে দিয়েছে। এখন চিকিৎসা ও সংসারের খরচ চালানোই সবচেয়ে বড় চিন্তা।”
তিনি সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আকুল আবেদন জানান।
এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ হেলাল উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ানোয় পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের এই সহযোগিতাকে মানবিক সহায়তা হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে হেলাল উদ্দিনের পরিবার।