নোয়াখালী সংবাদদাতা
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানি ইউনিয়নে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতের এই ঘটনায় অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন এবং সংঘর্ষের সময় গুলিবর্ষণে শাকিল নামের এক যুবদল কর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এদিকে, এই সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর নাম জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত ইসলামী নোয়াখালী জেলা শাখা।
জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিন ছয়ানি ইউনিয়নের রামাশ্বপুর নোয়া বাড়ির বিএনপি কর্মী ইমন ও তাহেরপুর গ্রামের নুর মিয়া হাজী বাড়ির বিএনপি কর্মী মাহফুজের মধ্যে অভ্যন্তরীণ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাকবিত-া হয়। এরই জের ধরে গত সোমবার বিকেলে স্থানীয় বিএনপির একটি মিছিলের প্রস্তুতিকালে উভয়ের মধ্যে পুনরায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
মিছিল শেষে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে স্থানীয় যুবদল নেতা আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে সবুর, শাকিল, রাজু ও ইকবালসহ অন্তত ৫০-৬০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মাহফুজকে খুঁজতে বের হয়। তারা রামশ্বপুর এলাকায় মাহফুজের সন্ধানে দোকানপাটে হামলা, বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় স্থানীয় দোকানদার শামছু উদ্দিন, মোসলেহ উদ্দিন, নাঈম ও আজিমসহ অন্তত ৬ জনকে মারধর করা হয়।
মাহফুজকে না পেয়ে হামলাকারীরা তার বসতবাড়িতে হামলা চালায় এবং বাড়ির নারী সদস্যদের মারধর ও লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে। পরে এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পালানোর সময় এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ করলে তাদেরই সহযোগী শাকিল গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে উত্তেজিত এলাকাবাসী হামলায় নেতৃত্বদানকারী যুবদল নেতা আলাউদ্দিনকে আটক করে পিটুনি দেয়।
জামায়াতকে জড়ানোর প্রতিবাদে মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নোয়াখালী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা বোরহান উদ্দিন বলেন, ছয়ানি ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া উক্ত সংঘাত সম্পূর্ণভাবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। এর সাথে জামায়াতে ইসলামীর দূরতম কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। নিজেদের ব্যর্থতার দায়ভার অন্যের ওপর চাপিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য কিছু অসাধু মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি একই এলাকায় খাল খনন উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেও বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। জামায়াত যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার নিন্দা জানায় এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।