কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব মনির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শনিবার (১৬ মে) সকালে খাড়েরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ‘খাড়েরা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নামজারি, খতিয়ান সংশোধনসহ বিভিন্ন ভূমিসংক্রান্ত সেবা নিতে গেলে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ তোলেন তারা।

বক্তাদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। দ্রুত এসব অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।

এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত নায়েব মনির হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, অভিযোগ তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবিরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেতুর অভাবে বন্দী হোসেনপুরের সাহেবের চর

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা : কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সাহেবের চর গ্রাম। চারদিকে সবুজ ফসলের মাঠ, ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা খাল আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালে চাপা পড়ে আছে হাজারো মানুষের দীর্ঘশ্বাস, অবহেলা আর টিকে থাকার কঠিন সংগ্রাম।

মাত্র একটি ছোট সেতুর অভাবে গত তিন যুগ ধরে দুর্বিষহ জীবন পার করছেন গ্রামের প্রায় তিন হাজার বাসিন্দা।

যাতায়াতের একমাত্র পথে বুকসমান পানি

সাহেবের চর থেকে মূল সড়কে যাওয়ার একমাত্র পথটি গেছে ব্রহ্মপুত্রের শাখা খালের ওপর দিয়ে। এই পথেই কৃষককে যেতে হয় মাঠে, শিক্ষার্থীদের যেতে হয় স্কুল-কলেজে, রোগীকে যেতে হয় হাসপাতালে।

কিন্তু খালটি পুনঃখননের পর বছরের আট থেকে নয় মাসই পানিতে ডুবে থাকে চলাচলের পথ। রাস্তা নেই, সেতু নেই। আছে শুধু বুকসমান পানি আর প্রতিদিনের মৃত্যুঝুঁকি।

প্রায় ৫০০ একর আবাদি জমিতে যেতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় কৃষকদের। কাঁধে লাঙ্গল, হাতে বীজ, সঙ্গে গরু-ছাগল নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে পার হতে গিয়ে যেন প্রতিদিন যুদ্ধ করতে হয় তাদের। কখনো কাদায় পড়ে নষ্ট হয় ফসল, কখনো পানিতে পড়ে আহত হন কৃষক।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক চিত্র স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের। জামা-কাপড় ভিজিয়ে, বইখাতা মাথায় তুলে প্রতিদিন পার হতে হয় এই খাল। অনেক সময় ভিজে বই নষ্ট হয়। বর্ষায় পানি বাড়লে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়াই বন্ধ করে দেয়। স্রোতের সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে তাদের স্বপ্নও।

স্থানীয় গ্রামবাসী জয়নাল মিয়া (৬৫) বলেন, “ছোটবেলা থেইকা এই কষ্ট দেইখা আসতেছি। কত চেয়ারম্যান মেম্বার আইলো, সেতুর কথা কইলো, কিন্তু আজও কিছুই হইলো না। বর্ষা আইলেই আমরা বন্দি হইয়া যাই।”