কুষ্টিয়ার খোকসা পৌরসভার শোমসপুর রেলগেট থেকে খোকসা জানিপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রশস্তকরণ শেষে কার্পেটিং কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের বিটুমিন, ইট ও পাথর ব্যবহারের কারণে নির্মাণের মাত্র একদিনের মধ্যেই সড়কের খোয়া ও পাথর উঠে যাওয়ার অভিযোগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১১টায় সরেজমিনে নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন।

পরিদর্শনকালে তিনি নির্মাণকাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি প্রত্যক্ষ করেন এবং কাজের মান নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরোনো কার্পেটিং অপসারণ না করেই তার ওপর নতুন কার্পেটিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি বর্ষার বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সড়কের কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব পরিমাপ করে দেখা যায়, সিডিউল অনুযায়ী ৪০ মিলিমিটার হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মাত্র ৩৫ মিলিমিটার পাওয়া গেছে।

এ সময় সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন বলেন, “কাজের গুণগত মান নিশ্চিত না হলে কোনো বিল ছাড় দেওয়া হবে না। আমি আবারও আকস্মিক পরিদর্শনে আসবো। সিডিউল অনুযায়ী কাজ না হলে ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খোকসা উপজেলা আমীর মো. নজরুল ইসলাম, পৌর মেয়র পদপ্রার্থী মো. আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি আজাদ আহমেদসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

শোমসপুর রেলগেট থেকে খোকসা হাইওয়ে সড়ক পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৩৭১ মিটার দীর্ঘ সড়কের উন্নয়নকাজে প্রায় ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বসু এন্টারপ্রাইজ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল শোমসপুর রেলগেট থেকে খোকসা জানিপুর বাসস্ট্যান্ড সড়কের নিম্নমানের কাজ দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা মেট্রোরেলের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও স্থানীয় বাসিন্দা নকিব উদ্দিন। তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে কীভাবে এমন নিম্নমানের কাজ হচ্ছে, সেটিই বড় প্রশ্ন। বিটুমিনের পরিমাণ অত্যন্ত কম। ফলে নির্মাণের একদিনের মধ্যেই রাস্তার খোয়া ও পাথর উঠে যাচ্ছে।”

খোকসা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা. তাসমিন জাহান বলেন, প্রকল্পটির কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য একজন প্রকৌশলীকে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি কাজের মান যাচাই করবেন। তবে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী অবিলম্বে নিম্নমানের কাজ বন্ধ করে সিডিউল অনুযায়ী টেকসই ও মানসম্মতভাবে শোমসপুর রেলগেট থেকে খোকসা বাসস্ট্যান্ড সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন।