আমৃত্যু দেশ ও দেশের জনগণের জন্য কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন আমি আজকে একটা শপথ একটা প্রতিজ্ঞা আপনাদের সামনে করতে চাই, তা হলো আল্লাহ যদি আমাকে তৌফিক দেন তাহলে আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য কাজ করতে চাই। আমি যেন বাংলাদেশের অধিকার গুলোকে রক্ষা করবার জন্য কাজ করতে পারি, গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে কাজ করতে পারি। আমি আপনাদের জন্য কাজ করতে চাই, যারা কাজ করে তাদের সঙ্গে থাকতে চাই। গতকাল রোববার বিকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় (বড়মাঠ) মাঠে রাষ্ট্রপতির সম্মানে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওবাসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,আপনারা যে সম্মান ভালবাসা আমাকে দিয়েছেন আমি চিরদিন তা মনে রাখবো, আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ, এ কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আপনাদের ভালবাসার প্রতিদান কিভাবে দিব তা আমি জানি না। এ ঋণ আমি কোনদিন শোধ করতে পারব না। এ ঋণ শোধ করার না। আমি যখনি আপনাদের সামনে এসেছি, আবেগে আপ্লুত হয়েছি। আপনারা আমাকে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন, আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। আমি চেষ্টা করেছি আপনাদের সে আস্থার মূল্য দিতে, মর্যাদা রাখতে। আজকের এই দিনটি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের। আমি পরম আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করি,তিনি আজকে আমাকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে এসেছেন। যেখানে আমি আপনাদের জন্য চেষ্টা করতে পারব। আপনারা এ কথা মনে করবেন না যে আমি আপনাদের থেকে দূরে চলে গেছি বা আপনারা আমার থেকে দূরে চলে গেছেন। আমি সব সময় আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আমি আপনাদের সঙ্গেই থাকব। আমি জানি আপনারা আমাকে ভালবাসেন, আমার সাথে আছেন।
এ সময় সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা অনেক ত্যাগ তীতিক্ষা, লড়াই সংগ্রামের পর আজকে আমরা একটা সুযোগ পেয়েছি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার। আসুন কোন লড়াই সংঘাত নয়, সংঘর্ষ নয়, কোন প্রতিশোধ নয়, কোন রক্তপাত নয়, আমরা ভালবাসা এবং ভালবাসার মধ্যদিয়ে একটা সত্যিকার একটা সমাজ গড়ে তুলি। যে সমাজে সবাই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবো। আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানাব, আপনার নিজেদের রাজনীতি করবেন, মতবাদ প্রচার করবেন, কিন্তু সংঘাতে কখনো জড়াবেন না। আমরা অতীতে দেখেছি কি অকথ্য নির্যাতন হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষের ওপর। তাদের নামে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। তাদের কারা বরণ করতে হয়েছে। আমরা যে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি, সংগ্রাম করেছি সে গণতন্ত্রকে আমরা রক্ষা করতে চাই। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে এখানে আমরা তৈরী করতে চাই। আমরা বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থেই একটা সমঝোতার রাজনীতি দেখতে চাই। কিভাবে মানুষের অভাব দূর করা যায়, কিভাবে শিক্ষার উন্নয়ন করা যায় তা, ছেলে মেয়েরা যেন লেখাপড়া শেষ করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে তা দেখতে চাই।
নির্বাচনের পূর্বে তারেক রহমানের কাছে উত্থাপিত দাবি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের দাবি ছিল একটা বিশ্ববিদ্যালয়, সেটির জমি অধিগ্রহণ হয়েছে, কাল (আজ সোমবার) উদ্ধোধন করব। আপনাদের ছেলে মেয়েরা সেখানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবে। একটা মেডিকেল কলেজের দাবি ছিল, সেটিও ঠিক হয়ে গেছে, আগামী বছর এখানে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হবে। বিমানবন্দর চালু করার দাবি আপনারা করেছিলেন, আমি অনেক না থেকেও রাজি হয়েছি। কারণ বিমানবন্দর হলে সাধারণ মানুষের খুব একটা উপকার হবে না। তবে হ্যা বিমানবন্দর হলে ব্যবসা বাণিজ্য যারা করবেন তাদের জন্য উপকার হবে, সহজ হবে। বিমানবন্দরকে ভবিষ্যতে টিকিয়ে রাখতে হেলে এখানে কল কারখানা বাড়াতে হবে। এখানে কলখারখানা একদম নেই। এখানে মানুষ কাজ পায় না, আমরা সে কাজের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। আপনারা দেখেন এখানে নির্বাচনের পরই অর্থ উপদেষ্টাকে নিয়ে এসেছিলাম, তিনি জায়গাটা দেখেছেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছেন, বাণিজ্য মন্ত্রী এসেছিলেন, কথা বলেছেন। আমরা শিগগিরই বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আসবো। তারা এখানে বিনিয়োগ করবেন, আমরা আশা করছি এখানে চীন থেকে বিশেষজ্ঞরা আসবেন, কৃষি ভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার জন্য। ভূল্লি ও রুহিয়াকে নতুন দুইটি উপজেলা করার দাবি ছিল আপনাদের, সে দাবিও পূরণ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সংসদ সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমার দলের যিনি নেতা ছিলেন জনাব তারেক রহমান, তিনি আমার ওপরে আস্থা রেখেছিলেন। দল আমার ওপর আস্থা রেখেছিল। পার্লামেন্ট আমাকে নির্বাচিত করেছে। সে জন্য তাদের সকলকে আমি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। এ সময় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল।
এর আগে দুপুর ১২ টা ৫৭ মিনিটে হেলিকপ্টার যোগে ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে পৌছান রাষ্ট্রপতি। সেখান থেকে সার্কিট হাউসে পৌছালে তাকে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন। এরপর শহরের সেনুয়া গোরস্থানে অবস্থিত পিতা সাবেক মন্ত্রী মির্জা রুহুল আমিন (চোখা মিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিকাল সাড়ে তিনটায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় (বড়মাঠ) মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল। এসময় মাঠে উপস্থিত হাজার হাজার সাধারণ মানুষ তাকে করতালি দিয়ে বরণ করেন।
নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ডা. এবিএম খয়রুর করিব এর সভাপতি ও ইএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক ড. শহিদ উজজ্জমান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ আক্তারুজ্জামান মিয়া, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের এমপি ডা. আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এমপি জাহিদুর রহমান,দিনাজপুর-১ আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান, অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে, মির্জা রুহুল আমিন স্মৃতি পরিষদের সভাপতি আইয়ুব আলীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁওয়ে ২৪ এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহযোগিতা তুল দেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল।