যেসব দেশে অর্থ পাচার হয়েছে সেসব দেশ কতটা সহায়তা করছে এমন প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ব্রিটিশ এমপিরা এখানে সহযোগিতা করছেন। এছাড়া অন্য দেশগুলোতে আমরা কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছি। সেসব জায়গা থেকেও সাড়া পাচ্ছি। বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ফ্রিজ করছে। বিচারের পর এসব টাকা ফেরত আনা সম্ভব হবে। ফ্রিজ করার কারণে পাচারের প্রমাণ নষ্ট হওয়ার সুযোগ না থাকায় বিচার প্রক্রিয়া সহজ হবে। সেই সঙ্গে এসব সম্পদের উৎস অনুসন্ধান সহজ হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
গতকাল শনিবার পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে গভর্নর এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চুরি করা অর্থ আমরা ফেরত নিয়ে আসব। এটা আমাদের পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট। সব সরকারেরই এ পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট থাকা উচিত।
যেসব দেশে অর্থ পাচার হয়েছে সেসব দেশ কতটা সহায়তা করছে এমন প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ব্রিটিশ এমপিরা এখানে সহযোগিতা করছেন। এছাড়া অন্য দেশগুলোতে আমরা কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছি। সেসব জায়গা থেকেও সাড়া পাচ্ছি। রাজনৈতিকভাবে যদি সিদ্ধান্তগুলো চলমান রাখা হয় তাহলে পাচার হওয়া অর্থের বড় একটি অংশ ফেরত আনা সম্ভব। কারণ এটি অনেক দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, আরো বেশ কিছু দেশে এ ধরনের সম্পদ রয়েছেÑসেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমি দুবাই গিয়েছিলাম গত সপ্তাহে। এরপর সিঙ্গাপুর ও লন্ডনে যাওয়ার প্ল্যান আছে। আবার আমাদের ইন্টারন্যাশনাল একটা কনফারেন্স করারও প্ল্যান আছে। এটাকে আমাদের অ্যাকটিভলি পলিটিক্যাল সার্কেলে রাখতে হবে। এটা না রাখলে, পরে ভুলে গেলে এ সম্পদ আসবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এটা স্মরণ করে দিতে হবে যে এটা নৈতিকতা বিরোধী। ডিপোজিটরদের টাকা জনগণের সম্পদ - এটা তাদেরকে ফেরত দেয়া উচিত।
অর্থ ফেরত আসতে কতদিন লাগতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, এটা বিচারের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু এখন যেটা হচ্ছে যে তারা এ সম্পদগুলো বিক্রি করতে পারবে না, আইনি প্রক্রিয়া যতদিন না শেষ হয়। কাজেই আমরা লিগ্যাল প্রসেসটা শুরু করব। এটার পরবর্তী ধাপে আমাদের ল’ইয়ার থাকবে। কিন্তু সেটা (সম্পদ) যদি তারা বিক্রি করে চলে যায়, তাহলে তো লিগ্যাল প্রসেস শুরু করে আমাদের লাভ হবে না। সুতরাং, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ধাপ, সম্পদটা আটকে গেল আর নড়াচড়া করতে পারবে না। বিচারক সিদ্ধান্ত নেবেন যে সে সম্পদ তার না বাংলাদেশের সেটার ভিত্তিতে।