ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা ও দ্বীনের পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের পূর্ণ পর্যন্ত ইউনিট দায়িত্বশীল সহ ইসলামী আন্দোলনের সকল জনশক্তিকে ময়দানে ঐক্যবদ্ধ ও আপসহীন থাকার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নাখালপাড়ার হাজী মরণ আলী কামিল মাদরাসা মিলনায়তনে তেজগাঁও উত্তর থানা জামায়াত আয়োজিত এক ইউনিট দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। থানা আমীর ও ২৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হাফেজ আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি রাসিফুল হক নাসিফের পরিচালনায় এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা সাবেক আমীর ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক হাফেজ মিজানুর রহমানের দারসুল কুরাানের মাধ্যমে শুরু হওয়া সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও হাতিরঝিল অঞ্চল পরিচালক হেমায়েত হোসাইন। উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য এনামুল হক, ইঞ্জিনিয়ার মহসিন খান, মোফাজ্জল হোসেন রকি, ইউনুস শেখ ও সোলাইমান হোসেন, ওয়ার্ড সভাপতি রফিকুল ইসলাম, কামরুল হুদা শামীম, মাস্টার নজরুল ইসলাম, নো’মান উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম, মাওলানা নূর উদ্দিন, ফারুক হোসেন ও ওমর ফারুক রিয়াদ প্রমুখ।

সেলিম উদ্দিন বলেন, ইসলামী আন্দোলনের পথ কখনো ফুল বিছানো ছিলো না; এখনো নয়। যুগে যুগে যারাই মানুষের কাছে দ্বীনে হক্বের দাওয়াত নিয়ে হাজির হয়েছেন, তাদের ওপরই নেমে এসেছে অবর্ণনীয় জুলুম-নির্যাতন। তাদের নামে অনেক অপবাদ এবং চরিত্র হনন করা হয়েছে। এমনকি নবী-রাসূলগণও এ নির্মমতা থেকে রেহাই পাননি। এদের কাউকে কাউকে বিরুদ্ধবাদী কুফরী শক্তি হত্যাও করেছে। এমনকি ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য বিশ^নবী (সা.)-এর ওপরও নেমে এসেছিলো অবর্ণনীয় জুলুম-নির্যাতন। এজন্য তাকে জন্মভূমি মক্কা ছেড়ে মদীনায় হিজরত করতে হয়েছিলো। তাই ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও জুলুম-নির্যাতনে হতোদ্দম ও বিভ্রান্ত হলেও চলবে না বরং সকল বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই দ্বীন বিজয়ের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার নতুন করে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারি হয়ে ওঠার হীন মানসিকতা থেকেই আবারো আওয়ামী বয়ান নিয়ে হাজির হয়ে দেশ ও জাতিকে সংঘাতের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। জাতীয় সংসদে কতিপয় সরকার দলীয় সদস্য উষ্কানীমূলক বক্তব্য দিয়ে পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছেন। তাদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় দেশে বিরোধী দলই এখন প্রধান সমস্যা। তাই সরকারের কোন কোন মন্ত্রী ও কতিপয় সরকার দলীয় সদস্য বিরোধী দল নির্মূলের ঘোষণা দিয়ে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদকে পাশ কাটানোর অপতৎপরতা শুরু করেছেন। কিন্তু তাদের সে স্বপ্নবিলাস বীর জনতা কখনোই সফল ও স্বার্থক হতে দেবে না। তিনি সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় জনগণ ঘরে বসে তামাশা দেখবে না। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।