জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, 'আশা করছি প্রথম ধাপের সংলাপে যেসব বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে সেগুলো নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিষয় ভিত্তিকভাবে আলোচনা করতে পারব।'

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সঙ্গে সংলাপের সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দলটির সঙ্গে ১৩ মে মূলতবি হওয়া বৈঠক আজ আবার শুরু হয়। সিপিবির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রথম ধাপের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ শেষ হচ্ছে। গত ২০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংলাপে ৩৩টি দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করেন। আলী রীয়াজ বলেন, 'প্রথম পর্যায়ের সংলাপের সমাপ্তি টানব এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা খুব শিগগিরই শুরু করতে পারব।

প্রথম ধাপের আলোচনার অগ্রগতি দ্রুত সাংবাদিক সম্মেলন করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, 'গত দুই মাসের আলোচনায় অনেক বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একমত হয়েছি।'

তিনি বলেন, 'ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে যে সমস্ত মতামত দেওয়া হয়েছে, তার ভিত্তিতে দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনার মধ্যে দিয়ে একটি জাতীয় সনদের খসড়া তৈরি করতে পারব বলে আমাদের দৃঢ় আশা। এবং সেইভাবে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে।'

জাতীয় ঐকমত্য গঠনের জন্য ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে প্রত্যেককে অংশীদার, রাজনৈতিক দলগুলো, সুশীল সমাজ অংশীদার, রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলোর ভূমিকা আছে। আমাদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারের সঞ্চালনায় বৈঠকে আরও উপস্থিত আছেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া।

নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে দাবি করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, আমূল সংস্কার করে নির্বাচনের দিকে যেতে হবে। সেটা করতে দরকার...জনগণ বুঝতে চায়, তারা ঠিকমতো ভোট দিতে পারবে কি-না। ভোটে দাঁড়ানোর অধিকার আছে কিনা। এখানে প্রশাসনিক কোনো কারসাজি হবে কি-না। কিংবা কোনো সাম্প্রদায়িক-আঞ্চলিক প্রচার-প্রচারণা ভোট থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানো হবে কি-না। পুরোনো ভয়ের রাজত্ব কায়েম হবে কি-না।

জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রিন্স। গত ১৩ মে মূলতবি হওয়া সংলাপ গতকাল আবার শুরু হয় বিকেল ৩টা থেকে। রুহিন হোসেন প্রিন্সের নেতৃত্বে দলটির ৭ সদস্য অংশ নেন।

সংবিধান, বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ছাড়া স্বাস্থ্য, নারী সংস্কারসহ বাকি পাঁচ কমিশনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করেন রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি বলেন, তাদের প্রস্তাবগুলো আলোচনায় নিয়ে আসা গেলে, আাগমীতে জনস্বার্থের বিষয়গুলো আরো বেশি গুরুত্ব পাবে, মানুষ ভাবতে পারবে এবং মানুষের চিন্তাকে সামনে এনে আমাদের সম্পৃক্ত করতে পারবে।

তিনি বলেন, সংস্কারের সুনির্দিষ্ট প্রশ্নগুলো জনগণের সামনে নিয়ে আসা গেলে, জনগণ যদি মনে করে সেটা তার সঙ্গে সম্পর্কিত, তাহলে আমরা অগ্রগতির দিকে নিয়ে যেতে পারব।

তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের (পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন) অনেকগুলো কথা থাকলেও, তা প্রশ্নমালায় (স্প্রেডশিট) নেই। সেটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করি। জনগণ গণমাধ্যমের সাহায্যে সেগুলো জানতে পারলে তাদের মতামত দেয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রিন্স বলেন, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য, অবাধ নির্বাচনের জন্য দ্রুত সংস্কারের যে যে কাজ করা দরকার, যেটা আপনারা বইতে (পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন) বলেছেন, কিন্তু এখানে (স্প্রেডশিট) নেই। সেগুলো সামনে নিয়ে আসা গেলে অনেক কনফিউশান দুর হয়ে যাবে।