বাংলাদেশ ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত একটি জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২১ মিলিয়ন ডলারের সমুদ্রগামী টাগবোট তৈরির চুক্তি বাতিল করেছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার যখন বেশ কয়েক সপ্তাহ বাকি, তখন গার্ডেনরিচ নামে ওই প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বিশেষ ধরনের জাহাজ নির্মাণের অর্ডারটি দিয়েছিল।
কাজটি পাওয়ার পর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামও যথারীতি একলাফে বেড়েছিল প্রায় ১০ শতাংশ। এখন সেটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বুধবার ভারতের স্টক এক্সচেঞ্জের ফাইলিংয়ে এমনটি জানানো হয়েছে। এই খবর সামনে আসার পর গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার বেশ বড়সড় ধাক্কা খেলেও পরে অবশ্য তারা তা সামলেও নিয়েছে। তবে ওই জাহাজের অর্ডার কেন বাতিল করা হলো, তা নিয়ে বাংলাদেশের নৌবাহিনী বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চুক্তি অনুযায়ী, বিশেষ ধরনের ওই জাহাজের দৈর্ঘ্য হওয়ার কথা ছিল ৬১ মিটার। আর প্রস্থ ১৫ দশমিক ৮ মিটার হওয়ার কথা ছিল। এর ডেপথ বা গভীরতা হওয়ার কথা ছিল প্রায় ৭ মিটার। পরিপূর্ণ লোড নিয়ে জাহাজটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩ নটিক্যাল মাইল গতিবেগে যেতে পারবে বলেও চুক্তিতে উল্লেখ করা ছিল। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ডিফেন্স পারচেজের সঙ্গে ভারতের এই জাহাজ নির্মাতা সংস্থাটির মধ্যে চুক্তিটি সই হয়েছিল ২০২৪ সালের ১ জুলাই। চুক্তি অনুয়ায়ী, জাহাজটি তৈরি করে সর্বোচ্চ ২৪ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলেও একটি শর্ত ছিল। কিন্তু চুক্তি হওয়ার বছর না ঘুরতেই সেটি বাতিল হলো।
কী ঘটেছে? ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ‘গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’ (জিআরএসই) এর সঙ্গে করা ২ কোটি ১০ লাখ ডলারের অর্ডার বাতিল করেছে। জিআরএসই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি পাবলিক সেক্টর সংস্থা, যারা নৌযান নির্মাণ ও মেরামতের কাজ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের জন্য কাজ করে।
স্টক এক্সচেঞ্জে জিআরএসই জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার অর্ডারটি বাতিল করেছে। হিন্দু বিজনেস লাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই পক্ষের আলোচনার পর চুক্তিটি বাতিল হয়েছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, জিআরএসইকে একটি ৮০০ টনের উন্নত মহাসাগরগামী টাগবোট নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। জাহাজটি ৬১ মিটার লম্বা, ১৫.৮০ মিটার চওড়া, ৪.৮০ মিটার ড্রাফট ও ৬.৮০ মিটার গভীরতা সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। এটি উচ্চ ক্ষমতার টানার ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হতো। এছাড়া জাহাজটির সামনে ৭৬ টন ও পেছনে ৫০ টন বলার্ড পুল ক্ষমতা এবং কমপক্ষে ১৩ নট গতিসম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। এই জাহাজটির কাজ ছিল দূরপাল্লার টানার কাজ, ডকিং সহযোগিতা, উদ্ধার অভিযান, উদ্ধার কাজ, অগ্নিনির্বাপণ এবং সাগরে সীমিত দূষণ নিয়ন্ত্রণ। চুক্তিটি জুলাই ২০২৪-এ ঢাকায় জিআরএসই এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিটি ভারত কর্তৃক ২০২৩ সালে কার্যকর করা ৫০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা ঋণের অধীনে সম্পাদিত প্রথম বড় প্রকল্প ছিল। সূত্র: ফার্স্টপোস্ট।