আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার আনন্দবাজার এলাকায় কোমলমতি শিশুদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব কলম ও খাবার বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দুপুর আড়াইটায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম এবং বিশিষ্ট টকশো ব্যক্তিত্ব ড. ফয়জুল্লাহ। এছাড়া মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মো. মাহফুজুর রহমান, ঢাকা মহানগরী পশ্চিম শিবিরের সভাপতি মহিবুল্লাহ আল হুসাইনী ও জোবায়ের হোসেন রাজন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “বিশ্ব সাক্ষরতা দিবসের আজকের দিনটি অত্যন্ত ঐতিহাসিক। আমরা বলেছিলাম, ‘চলো বদলে দেই ঢাকা উত্তর’। সেই অঙ্গীকারকে বাস্তবে রূপ দিতে আমরা কাজ শুরু করেছি।”
তিনি বলেন, বর্জ্য কোনো সমস্যা নয়, বরং এটি একটি সম্পদ। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্য থেকেই উন্নতি ও অগ্রগতি সম্ভব।
সেলিম উদ্দিন বলেন, শুধু মুখের কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেই ঢাকা শহরকে বদলে দিতে চান তারা। ইতোমধ্যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ২০টি স্মার্ট বিন স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব কলম তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছা থাকলে জনগণের কল্যাণে অনেক কিছুই করা সম্ভব। অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে শিশুদের হাতে পরিবেশবান্ধব কলম তুলে দিতে পেরেছেন তারা। এটি তাদের কাজের একটি ছোট উদাহরণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের নতুনত্ব ও স্মার্ট চিন্তা তাদের পথচলার শুরু। ভবিষ্যতেও নগরবাসীর কল্যাণে আরও নতুন ও সৃজনশীল উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
বর্জ্য পুনর্ব্যবহারকে কেন্দ্র করে কাগজ, কলমসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
তিনি বলেন, “চাকরি কোনো সোনার হরিণ নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ থাকলে মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। আমরা মানুষকে অন্যের কাছে হাত পেতে দিতে চাই না; বরং কাজের বিনিময়ে সম্মানের সঙ্গে তাদের জীবনযাপনের সুযোগ করে দিতে চাই।”
নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, উপযুক্ত ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাবেই মানুষ অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাই সততা, যোগ্যতা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের গুণাবলি রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের হাতেই নগর পরিচালনার দায়িত্ব জনগণ তুলে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় নির্বাচনে জনগণ চুরি, দুর্নীতি ও নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত রাখার রাজনীতিকে বেছে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন সেলিম উদ্দিন। তার দাবি, জনগণ সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত নেতৃত্বকেই নির্বাচিত করবে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মেডিকেল ক্যাম্পসহ নানা ধরনের সৃজনশীল ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের লক্ষ্য ঢাকা শহরকে পরিবর্তন করা।
সবশেষে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “কাজের মাধ্যমেই নেতৃত্বের প্রমাণ দিতে হবে। কারণ কাজ ছাড়া বাংলাদেশের মানুষ আর কাউকে আগামীতে নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে না।”