• এসবির এসআই হত্যার প্রধান আসামী রিমান্ডে
  • রংপুরে চার খুনের ঘটনার রহস্য উন্মোচন হয় নি
  • রাজধানীতে আরও দুই খুন

ঢাকার সাভারের আমিন বাজারে পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (এসবি) এসআই আলতাফ হোসেনকে (৫৮) প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত প্রকাশ্যে পিটিয়ে তাকে হত্যা করে। এসবির রাজধানীর মালিবাগ জোনে কর্মরত ছিলেন তিনি। এসময় তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামকেও (২৬) পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই রোববার দুপুরে রাজধানীর সবুজবাগে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিরপুরে ‘টাকার লেনদেন নিয়ে’ বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে এক যুবককে হত্যা করা হয়। রোববার রাত ১টার দিকে শাহ আলী থানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার দুই দিন আগে মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করতে জমি বিক্রির ৫ লাখ টাকা নিয়ে জামালপুর থেকে গাজীপুর আসার পথে রাজধানীতে ‘রাজ ক্লাসিক’ বাসের চালক ও সহকারীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হয় ইসমাইল হোসেন (৫০) নামের এক বাবা। গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশের মুখ থেকে তার হাত ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার কয়েকদিন আগে, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারীদের হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে রনজিনা পারভীন (৪৫) নামে এক শিক্ষিকা নিহত হন। তিনি বগুড়ার গাবতলী এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। ২৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ৬টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ ঘটনা ঘটে। এছাড়াও কয়েকদিন আগে রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে নিমর্মভাবে হত্যা করা হয়। এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হয় নি।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক অস্বাভাবিক ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। রংপুর, ঢাকা, সাতক্ষীরা, খুলনা, কক্সবাজার, কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধবিষয়ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, একের পর এক একসঙ্গে একাধিক খুনের ঘটনা মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি করছে। আপাতদৃষ্টিতে এসব ঘটনার একটির সঙ্গে অন্যটির মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু গভীর বিশ্লেষণে দেখা যাবে, মিল রয়েছে। শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর আসামী গ্রেপ্তার করা নয়; অপরাধের কারণ ও ঝুঁকি চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধ করা নিয়েও কাজ করছে পুলিশ। যেমন নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতায় মাদক সহজলভ্য হয়ে গেছে। এতে মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ছে। মাদকাসক্ত ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। এমন ভয়ংকর মাদক ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে আসক্তদের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না।

সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধবিষয়ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, একের পর এক একসঙ্গে একাধিক খুনের ঘটনা মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি করছে। আপাতদৃষ্টিতে এসব ঘটনার একটির সঙ্গে অন্যটির মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু গভীর বিশ্লেষণে দেখা যাবে, মিল রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরে আলাদাভাবে একই পরিবারের একাধিক সদস্য হত্যার পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ২০টি ঘটনা পাওয়া গেছে সাতটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোনো ঘটনায় সম্পত্তি বা জমির বিরোধ এবং কোনোটির সঙ্গে মাদকের সম্পর্ক সামনে এসেছে। কোনোটি দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহের কারণে ঘটেছে বলেও উল্লেখ করেছে পুলিশ। কোনো কোনো ঘটনার কারণ এখনো অজানা।

পুলিশের পরিচয় পেয়ে আরও বেপরোয়া হয় হামলাকারীরা: র‌্যাব

সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাব হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। সংস্থাটি বলছে, অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে পুলিশ সদস্য আলতাফ হোসেন হামলাকারীদের ‘টার্গেট’ ছিলেন না। গতকাল সোমবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এ কথা বলেন। আসাদুজ্জামান বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে কোনো টার্গেট ছিলেন না। কারণ, আলতাফ হোসেন এসবিতে চাকরি করেন বা করতেন এবং তিনি সেই সময় সিভিল পোশাকে ছিলেন। র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, একজন বৃদ্ধ মানুষকে যখন আঘাত করা হচ্ছিল, তখন আলতাফ হোসেন পুলিশ সদস্য হিসেবে এবং একজন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব মনে করে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি নিতান্তই বিচ্ছিন্ন।

যেভাবে হামলা

র‌্যাব জানায়, শনিবার রাতে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে গ্যারেজের মালিককে মারধর করা হচ্ছিল। এ সময় এসআই আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করেন। প্রাইভেট কারে থাকা পাঁচজন গ্যারেজমালিকের ওপর হামলা করলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ সময় গ্যারেজের মালিককে মারধরকারীদের সঙ্গে আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এতে হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ হোসেন দৌড়ে তার ছেলের পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানেও যায়। পরে আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে তারা ভেতরে ঢোকে। দেশি অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলকে মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী শিউলি বেগম বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। পরে হামলার ‘মূল হোতা’ প্রাইভেট কারচালক জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেয় পুলিশ। র‌্যাব জানায়, রোববার রাতে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে র‌্যাব-১০ চারজন এবং আমিনবাজার থেকে র‌্যাব-৪ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে। মুন্সিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ ও ইমরান। আমিনবাজার থেকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, ছাব্বির আহম্মেদ ও ওয়াসিম। র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক বলেন, চারজনকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হই এবং চারজনকেই বিভিন্নভাবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তাদের প্রাথমিক সম্পৃক্ততা আমরা পেয়েছি। একই ঘটনায় র‌্যাব-৪ আরও চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। এ নিয়ে এজাহারভুক্ত ১৫ আসামির মধ্যে র‌্যাব ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

র‌্যাবের কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আপন ও জিহাদ অত্যন্ত অপরাধপ্রবণ। বেশ কিছুদিন ধরে তাদের পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড খারাপ। তারা ওই অঞ্চলের কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেন এবং মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, হামলাকারীদের বেশির ভাগই কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং মাদকসংক্রান্ত বিষয়ে জড়িত বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। আলতাফ হোসেনের ওপর আঘাত করেন আলাউদ্দিন। জিহাদ চাকু দিয়ে তাকে আঘাত করে জখম করেন। আপনকে ওই এলাকার গ্যাংয়ের মূল হোতা বলা যায়। তার বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি এসএস পাইপ দিয়ে আলতাফ হোসেনের মাথায় আঘাত করেন। ইমরানও গণপিটুনিতে অংশ নেন।

প্রধান আসামী জহুরুল ৫ দিনের রিমান্ডে

এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি জহুরুল ইসলামকে পাঁচদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকার আদালত এ আদেশ দেন। ঢাকা জেলা পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক আরিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে জহুরুলকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির আল আহসান। রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, অজ্ঞাতপরিচয় আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে আলতাফ হোসেনকে হত্যা করে তার লাশ ফেলে রেখে যায়। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও মূল রহস্য উদঘাটন, ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং অন্য জড়িতদের শনাক্ত করতে জহুরুলকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী শফিউজ্জামান স্বপন রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জহুরুলের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবাদ

স্পেশাল ব্রাঞ্চের এসআই আলতাফ হোসেন নিহত এবং তার ছেলে আরিফুল ইসলাম গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে বড়দেশী মদিনা হাউজিং এলাকায় একটি গেঞ্জি কারখানার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, কর্মরত একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে এভাবে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে হত্যা এবং তার সন্তানকে গুরুতর আহত করার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক, বর্বর ও উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ওপর আঘাত নয়, বরং তা আইনের শাসন, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি সরাসরি আঘাত। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন নিহত এসআই আলতাফ হোসেনের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং গুরুত্বর আহত আরিফুল ইসলামের আশু সুস্থতা কামনা করছে।

রেষ না কাটতেই আরও ঘটনা

রাজধানীর সবুজবাগে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন। রোববার দুপুর ৩টার দিকে সবুজবাগ আদর্শপাড়া বড়ইতলা ব্রিজ গার্মেন্টস গলির একটি বাড়ির পাঁচতলায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিফাত উল্লাহ (২৭) যাত্রাবাড়ী ধোলাইপাড় এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদিনের ছেলে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনা সম্পর্কে সবুজবাগ থানায় জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় ইয়াসিন ও রাব্বি নামে আরও দুজন আহত হয়েছেন। তারা চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। এদিকে শাহআলীতে ছুরিকাঘাতে মেহেদী হাসান (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শাহআলী মহিলা কলেজের সামনে সড়কে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মেহেদীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাহআলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতোয়ার রহমান। নিহত মেহেদীর বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামে। তার বাবার নাম মো. আলম। তিনি বর্তমানে মিরপুর থানার বড়বাগ এলাকায় থাকতেন। সাইনবোর্ড তৈরির কাজ করতেন মেহেদী।