সারা দেশে পেট্রোল পাম্পের ধর্মঘটে প্রায় ১০ ঘন্টা দুর্ভোগে পড়ে ভুক্তভোগীরা। পরে ১৫ কর্মদিবসে দাবী পূরনের আশ^াসে ধর্মঘট ২ মাসের জন্য স্থগিত করা হয় ।
জানা গেছে, তেল বিক্রির কমিশন বাড়ানোসহ ১০ দফা দাবিতে ডাকা পেট্রল পাম্পের ধর্মঘট দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছে বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক ঐক্য পরিষদ। রোববার কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ে গঠিত এই পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান বলেন, রোববার সকাল ৬টায় কর্মবিরতির কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ১০টায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন একটি বৈঠক হয়।
বৈঠকে জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তাই সারাদেশে কর্মবিরতি কর্মসূচি দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছে।আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো ২ মাসের মধ্যে সুরাহা না হলে আবারও কর্মবিরতিতে যাওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির নেতারা।
এদিকে রোববার সারাদেশে পূর্ব ঘোষিত আট ঘণ্টার প্রতীকী কর্মবিরতি পালন করে বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ও ট্যাঙ্কলরি মালিক ঐক্য পরিষদ। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সারাদেশে সব পেট্রল পাম্প ও ট্যাঙ্কলরি চলাচল বন্ধ থাকে।
এর আগে ১১ মে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পরিষদের পক্ষে জানানো হয়েছিল, ২৪ মের মধ্যে দাবি আদায় না হলে তারা ২৫ মে প্রতীকী কর্মসূচি পালন করবে। পরিষদের ঘোষণা অনুযায়ী, কর্মবিরতিতে জ্বালানি তেলের উত্তোলন, পরিবহন ও বিপণন বন্ধ থাকবে। তবে হজ ফ্লাইট ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সচল রাখার জন্য উড়োজাহাজের তেল পরিবহন চালু থাকবে। শুধু অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও যেসব পেট্রলপাম্পের সঙ্গে পুলিশের গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহের চুক্তি আছে, কেবল তারই পুলিশের গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ করতে পারবে।
এদিকে দশ দফা দাবিতে সারাদেশে আধাবেলা পেট্রোল পাম্প ধর্মঘটে বন্ধ ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও পরিবহন, বিপাকে পড়েছেন রাজধানীবাসী।
উত্তর বাড্ডার বাসিন্দা বাইক চালক জিয়া হোসেন সকালে স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বের হলে দেখেন আশপাশের সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ। নিজের দুরবস্থার কথা জানিয়ে জিয়া বলেন, অনেকেই জানে না আজকে ধর্মঘট চলছে। বাইক ঢেলে ঢেলে নানা পাম্পে ঘুরেও তেল পাওয়া যায়নি।
রাইড শেয়ারের আরেক বাইক চালক মনসুর বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন সকালে তেল নিয়ে কাজে বের হই। আজকে সকাল থেকে প্রতিটা পাম্প বন্ধ। বাইকে তেল না থাকায় বসে থাকতে হচ্ছে।’
প্রাইভেট গাড়ির ড্রাইভার নজরুল জানান, পাম্পে তেল থাকলেও বিক্রি বন্ধ রেখেছে কর্মচারীরা। জ্বালানি না থাকায় সড়কে গাড়ির চাপও তুলনামূলক কম।
সরেজমিনে রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, মধুবাগ, শাহজাহানপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায় বেশিরভাগ পাম্প বন্ধ। রামপুরার হাজিপাড়া পেট্রোল পাম্পের কর্মচারী আকবর বলেন, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে। এসময় তেল উত্তোলন এবং বিপণন বন্ধ থাকবে।
পেট্রোলপাম্প মালিকদেও ১০ দাবি হলো, সওজ অধিদপ্তরের ইজারা ভূমির মাশুল আগের মতো বহাল রাখা, নবায়নকালীন সময়ে নির্ধারিত ইজারা মাশুলের পে-অর্ডারসহ আবেদন নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে জমা দিলে সেটিকে নবায়ন হিসেবে গণ্য করা, বিএসটিআইয়ের আগের নিয়ম অনুযায়ী ডিসপেন্সিং ইউনিট স্ট্যাম্পিং ও পরিমাপ যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা, আন্ডার গ্রাউন্ড ট্যাঙ্ক ক্যালিব্রেশন, ডিপ রড পরীক্ষণ ফি ও নিবন্ধন প্রথা বাতিল।
এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে ঘর বা খোলা জায়গায় অবৈধভাবে মেশিন স্থাপন করে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ, ডিলারশিপ ছাড়া বিপণন কোম্পানির সরাসরি তেল বিক্রি বন্ধ, ট্যাঙ্কলরি চালক সংকট মোকাবিলায় চালকদের লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স ইস্যু প্রক্রিয়া সহজ করা, গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষার নামে রাস্তায় ট্যাঙ্কলরি যত্রতত্র থামানো যাবে না বলে দাবি জানানো হয়েছে। পেট্রল পাম্প মালিকদের দাবি, তেলের ডিপো গেটে কাগজপত্র পরীক্ষার সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও আন্তঃজেলা রুট পারমিট ইস্যু করতে হবে।
এদিকে পেট্রল পাম্প মালিকদের এ কর্মসূচিতে নৈতিক সমর্থন দেয় সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্ত এবং মহাসচিব ফারহান নূর গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে এ কর্মসূচির প্রতি নৈতিক সমর্থন জানান।