নারায়নগঞ্জের বন্দর থানার মদনপুরের আওয়ামী লীগ নেতা, হত্যাসহ কয়েকডজন মামলার আসামি সুরুজ মিয়া ও তার বাহিনী এখনো দখল-চাঁদাবাজিতে জড়িত। জুলাই বিপ্লবের পর সুরুজ মিয়া গাঢাকা দিলেও তার সন্ত্রাসী বাহিনী এখনো বেপরোয়া। সুরুজ মিয়ার দখল করা মার্কেট, দোকান, জমি, বাড়ি-ঘরসহ অন্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তার বাহিনী এখনো দখল করে রেখেছে। হাসিনা সরকারের আমলে নারায়নগঞ্জের গডফাদার শামিম ওসমানের ভাই সেলিম ওসমানের ছত্রছায়ায় থেকে গত ১৫ বছরে এমন কোনো অপকর্ম নেই সরুজ বাহিনী করেনি। দখল করা এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে এখনো লাখ লাখ টাকা চাঁদা তুলছে সুরুজ বাহিনী।

ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, সন্ত্রাসী সুরুজ মিয়ার দখল-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা তো দূরের কথা কোনো শব্দও করতে পারেনি স্থানীয়রা। কারো দোকান, বাড়ি-ঘর, জমি জোরপূর্বক দখল করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকেও সহায়তা পাওয়া যায়নি। টার্গেট করা বাড়ি, দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করতে বাধা দিলে তার নামে দেয়া হতো একের পর এক মিথ্যা মামলা। তার দেয়া মিথ্যা মামলায় এলাকার মানুষ জেল খেটেছেন আবার সম্পদও হারিয়েছেন। সুরুজ বাহিনীর ভয়ে ভুক্তভোগীরা এখনো দখল করে নেয়া মার্কেট, দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ-জুলাই বিপ্লবের পর মদনপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী সুরুজ গাঢাকা দিলেও তার বাহিনী এখনো প্রকাশ্যে কিভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রশ্ন-চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনী কিভাবে এখনো অন্যের দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে আছে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান ‘ডেভিল হান্ট’ অপারেশনে সুরুজ ও তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করার দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, মদনপুরের ‘একতা সুপার মার্কেট’ কয়েক বছর ধরে দখল করে রেখেছে আওয়ামী লীগ নেতা দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সুরুজ মিয়া। সমবায় আইনকে তোয়াক্কা না করে তিনি ২৭ বছর ধরে অবৈধভাবে সভাপতির পদ দখল করে ছিলেন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার দাপটে ২১ টি হত্যাসহ কয়েকডজন মামলার আসামি সুরুজ মিয়া ১০১ জন সদস্য বিশিষ্ট একতা সুপার মার্কেটের কয়েকজন মালিককে মিথ্যা মামলা দিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকান দখল করে। এরমধ্যে ১২ জনের দোকান জোরপূর্বক দখল করে নেয় সুরুজ মিয়া। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ১৯৯৭ সালে ১০১ জন সদস্য একতা সুপার মার্কেট নির্মান করি। তখন সুরুজ মিয়াকে সাময়িকভাবে সভাপতি করা হলেও ২৭ বছর ধরে মার্কেটটি দখল করে রাখেন তিনি। গত বছর গোপনে সমিতির নির্বাচন করে তার ছেলে সন্ত্রাসী হিরাকে সভাপতি, আপন ভাই আওয়ামী লীগ নেতা আরেক সন্ত্রাসী শহিদুল্লাহকে সহসভাপতি ও তার বাহিনীর সদস্য মতিন মিয়াকে সেক্রেটারি, ভাগিনা মনির মিয়াকে কোষাধ্যক্ষ এবং দুলাল মিয়াকে নিয়ে পকেট কমিটি করে। যা মার্কেটের ৯০ জন সদস্যের কেউ জানে না। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে বছরের পর বছর অন্যের দোকান দখল করে লাখ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন সুরুজ ও তার এই বাহিনী।

একতা সুপার মার্কেটের কয়েকটি দোকানের মালিক ৪১ নম্বর সদস্য হাফেজ মো: ইসহাক কবির জানান, ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তিনি একতা সুপার মার্কেট সমিতির ক্যাশিয়ার ছিলেন। এসময় সাড়ে তিন কোটি টাকা জমা করলেও সেই টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেয়ার জন্য হাফেজ ইসহাক কবিরের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা করেন। এরপর তাকে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করিয়ে ওই টাকা হাতিয়ে নেন সুরুজ মিয়া। হাফজে ইসহাক কবির ছাড়াও আমিনুল হক, রফিকুল ইসলাম (মৃত), হিরালাল দাস, ফজলুল করিমসহ বেশ কয়েকজনের দোকান দখল করে আছে সুরুজ বাহিনী। এরপর থেকে তারা আর নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছেন না। এখনো দোকান ভাড়ার টাকা তুলে নিচ্ছে তার বাহিনী। ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকরা সন্ত্রাসী ও দখলবাজ সুরুজ বাহিনীর হাত থেকে তাদের দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফেরত তাকে গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। এ ব্যাপারে কথা বলতে সুরুজ মিয়ার মোবাইল ফোনে কল করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।