গণশক্তি’র উদ্যোগে ‘নারীর ন্যায্যতা ও নারী সংস্কার কমিশন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কমিশনের বেশ কিছু সুপারিশ বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে রাষ্ট্রের দ্বান্দ্বিক অবস্থান তৈরি করবে, এই প্রতিবেদন সমাজে সংঘাত তৈরি করবে। ‘সমাজ বনাম রাষ্ট্র’ এবং ‘ধর্ম বনাম নারী’-কে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে এ কন্ট্রোভার্সিয়েল প্রতিবেদন। নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের পেশকৃত প্রস্তাবনা সরাসরি কুরআনের বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। নারী কমিশনের এই সংস্কার প্রস্তাব প্রমাণ করে, এটা পতিত ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের পক্ষের একটি বিশেষ গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের দলিল! সুতরাং এ প্রস্তাবনা শুধু বাতিলই নয়, পুরো ‘নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন’ বাতিল করতে হবে। বক্তারা সকল পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ ও ধর্মীয় স্কলারদের নিয়ে একটি ইনক্লুসিভ কমিটি গঠন করে ন্যায্যতার ভিত্তিতে নারী সংস্কার নীতিমালা প্রণয়নের জোর দাবি জানান।

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গণশক্তি’র উদ্যোগে ‘নারীর ন্যায্যতা ও নারী সংস্কার কমিশন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও গণশক্তি সভার সভাপতি সাদেক রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, কবি ফরহাদ মজহার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল, কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, মেজর (অব.) রেজাউল হান্নান শাহীন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড. শামীমা তাসনীম, ড. এ আর খান, সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সেক্রেটারি ড. ফেরদৌস আরা খানম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ খন্দকার আলমগীর হোসাইন, ডা. সুলতানা রাজিয়া, মোহসিনা মমতাজ মারিয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবুল কালাম, ইঞ্জিনিয়ার নিয়ামা ইসলাম, নতুন ধারা জনতার পার্টির চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ নূর, লেখক ও গবেষক আলাউদ্দিন কামরুল, মানবাধিকার কর্মী শারমিন সুলতানা চৈতি, জাস্টিস পার্টির চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মজুমদার প্রমুখ।

বক্তারা আরও বলেন, কমিশনের প্রস্তাবিত প্রতিবেদনের পাতায় পাতায় ধর্মকে নারী বৈষম্যের অন্যতম কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। দেশের সকল সচেতন নারী সমাজ প্রস্তাবিত এ সুপারিশকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

খ্যাতিমান দার্শনিক ও কবি ফরহাদ মজহার বলেছেন, আমাদের আলেমরা যদি ঠিকমতো কুরআন-হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা দিতেন তাহলে আমাদের দেশে নারীদের নিয়ে এতো মতপার্থক্য হতো না। তিনি বলেন, আমরা এমন কোন ভাষা ব্যবহার করব না যেটা ইসলামে আদবের মধ্যে পড়ে না। প্রয়োজনে আলোচনা হতে পারে। বিশ্লেষণ হতে পারে।

চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, আমরা ইচ্ছে হলেই নিজের ব্যাপারে যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। আমার শরীর আমার তাই বলে কি আমি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিতে পারি? আমার দেহ আমার সিদ্ধান্ত মানে আপনি সমাজকে অস্বীকার করছেন। এটা একটা চরম ব্যক্তি তান্ত্রিক চিন্তা। আমরা একটি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী। আমাদের বিরুদ্ধে সব সময় ষড়যন্ত্র হবে এটাই স্বাভাবিক। ষড়যন্ত্রের বিপরীতে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অগ্রসর হতে হবে। শালীনতা বজায় না রেখে যদি আমরা অশ্লীল তর্কে জড়িয়ে পড়ি সেটা হবে অনাকাক্সিক্ষত। আমাদেরকে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। সবাইকে সাথে নিয়ে আমাদের পথ চলতে হবে। কাউকে বাদ দিয়ে আমরা অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে বেশিদূর এগোতে পারবো না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আজকে নারী অধিকারের নামে সমকামিতা ও অবাধ যৌনতাকে লাইসেন্স দেয়ার চেষ্টা চলছে। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে মানুষ সেটা কখনো মেনে নেবে না। এ সমস্ত তথাকথিত নারীবাদীরা নিজেদেরকে প্রগ্রেসিভ মনে করে, উদারতার ফাঁকা বুলি ছাড়ে কিন্তু ব্যক্তি জীবনে তৃতীয় লিঙ্গের কারো সাথে তাদের কোন সহমর্মিতার নজীর নেই। তথাকথিত নারী সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট জাতি প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা এই বিতর্কিত নারী সংস্কার কমিশনেকে বাতিল করার দাবি জানাচ্ছি।

আজকে নারী অধিকারের নামে সমকামিতা ও অবাধ যৌনতাকে লাইসেন্স দেয়ার চেষ্টা চলছে। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে মানুষ সেটা কখনো মেনে নেবে না। এ সমস্ত তথাকথিত নারীবাদীরা নিজেদেরকে প্রগ্রেসিভ মনে করে, উদারতার ফাঁকা বুলি ছাড়ে কিন্তু ব্যক্তি জীবনে তৃতীয় লিঙ্গের কারো সাথে তাদের কোন সহমর্মিতার নজীর নেই। তথাকথিত নারী সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট জাতি প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিতর্কিত নারী সংস্কার কমিশনেকে বাতিলের দাবি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। ইসলামী মূল্যবোধ ও ইসলামী শিক্ষার চরম অজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশে। নারী কমিশনে একদিকে কোন ইসলামী জ্ঞান অর্জনকারী সদস্য রাখা হয়নি। অপরদিকে এই অজ্ঞ কমিশন, একজন ইসলামী স্কলারেরও মতামত নেয়নি। নারী কমিশনের সুপারিশ পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন ভেঙে দেওয়ার একটি ষড়যন্ত্র মূলক সুপারিশ। এই প্রতিবেদন কোনভাবে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্যের সাথে যায় না। পুরোপুরি পশ্চিমাদের সংস্কৃতি চালুর প্রচেষ্টা। সরকারের উচিত দ্রুত নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাতিলের পাশাপাশি নতুন কমিশন গঠন করা। সব স্টক হোল্ডারদের সাথে আলোচনা করে নতুন ভাবে নারী নীতি করার দাবি জানান নূরুল ইসলাম বুলবুল।