ইসরাইলী অবরোধের কারণে গাজায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে সেখানে অনাহারে চার বছর বয়সী এক শিশু মোহাম্মদ ইয়াসিন মারা গেছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ গতকাল রোববার এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করেছে যে, গাজার ৭০ হাজারের বেশি শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে। রয়টার্স, আল-জাজিরা।

গাজার কর্মকর্তারা জানান, বুধবার থেকে ইসরাইল মাত্র ১০০টি ট্রাককে ত্রাণ সহায়তা বহন করে গাজায় প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে, যা দুই মিলিয়ন মানুষের সাহায্যের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

এর ফলে গাজায় অনাহারে মৃত্যু হার বাড়ছে। গাজায় ইসরাইলের অবরোধ শুরুর পর থেকে অনাহারে এ পর্যন্ত ৫৮ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হলো।

ইসরাইলের সেনাবাহিনী বলেছে, গাজার খান ইউনিসে এক হামলায় নারী চিকিৎসকের ৯ সন্তান নিহত হওয়ার ঘটনাটি নিয়ে তারা পর্যালোচনা করছে। ওই হামলায় চিকিৎসক আলা আল-নাজ্জারের ১০ সন্তানের মধ্যে ৯ জনই নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বড়টির বয়স ১২ বছর এবং ছোটটির বয়স মাত্র কয়েক মাস।

গাজার কর্মকর্তারা বলেছেন, নিরপরাধ শিশুদের হত্যা করা ইসরাইলী সেনাদের জন্য বিনোদনের একটি উপায়ে পরিণত হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৩ হাজার ৯০১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ২২ হাজার ৫৯৩ জন আহত হয়েছে।

সরকার পরিচালিত মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে, কারণ ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে এবং তাদের মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চরম অপুষ্টিতে ভুগছে গাজার ৭১ হাজার শিশু ও ১৭ হাজার মা

গাজায় ইসরাইল সব ধরনের সাহায্য প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়ায় তীব্রতর হয়েছে ক্ষুধা ও অপুষ্টি। ব্যাপক দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে গাজার বাসিন্দারা। বর্তমানে উপত্যকাটির ৭১ হাজার শিশু এবং ১৭ হাজারেরও বেশি মা তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

গত ১২ মে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ প্রকাশিত ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্ল্যাসিফিকেশন’ বা আইপিসি প্রতিবেদন অনুসারে, গাজার ৪ লাখ ৭০ হাজার মানুষ বিপর্যয়কর ক্ষুধার সম্মুখীন। এ ছাড়া, পুরো জনগোষ্ঠী তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৭১ হাজার শিশু এবং ১৭ হাজারেরও বেশি মা তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছেন।তাদের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার প্রয়োজন হবে। ২০২৫ সালের শুরুতে সংস্থাগুলো অনুমান করেছিল যে,৬০ হাজার শিশুর চিকিৎসার প্রয়োজন হবে।

এই বিষয়ে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) নির্বাহী পরিচালক সিন্ডি ম্যাককেইন বলেছেন, ‘গাজার পরিবারগুলো না খেয়ে আছে, অথচ তাদের প্রয়োজনীয় খাবার সীমান্তে পড়ে আছে। নতুন করে সংঘাত এবং মার্চের শুরুতে মানবিক সহায়তার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা তাদের কাছে খাবার পৌঁছাতে পারছি না।’

ম্যাককেইন আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরিভাবে পদক্ষেপ নেওয়া অত্যাবশ্যক, যাতে গাজায় আবার সাহায্য প্রবাহিত হয়। যদি দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা অপেক্ষা করি, তবে অনেক মানুষের জন্য তা ইতিমধ্যেই অনেক দেরি হয়ে যাবে।’

গাজায় সীমান্ত ক্রসিংগুলো দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে, যা সেখানকার জনসংখ্যাকে এযাবৎকালের দীর্ঘতম অচলাবস্থার মুখোমুখি করেছে। এর ফলে বাজারে খাদ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা বেশির ভাগ পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।