সংস্কার এবং নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা হলে জনমনে স্বস্তি এবং আস্থা তৈরি হবে
সমস্যা যতই বড় হোক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সংস্কার এবং নির্বাচনের রোডম্যাপ দেওয়া হলে জনমনে স্বস্তি এবং আস্থা ফিরবে। সামনে এমন একটি নির্বাচন হতে হবে; যাতে বাস্তব অর্থে জনমতের প্রতিফলন ঘটে। বিতর্কিত কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রশ্নের মুখে না ফেলারও আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।
২৪ মে শনিবার সকালে রাজধানী ঢাকার মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সংগঠনের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ষান্মাসিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীরবৃন্দ, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলবৃন্দসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার (পুরুষ ও মহিলা) সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান মজলিসে শূরার অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্য পেশ করেন। অধিবেশনটি সকাল ৯টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় অগণিত মানুষের আত্মত্যাগ এবং ভূমিকা জড়িয়ে আছে। ১৯৭১ সাল থেকে ২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশের অনেক কিছু অর্জন করার ছিল। হয়তো অনেক কিছু হয়েছে। কিন্তু একটি স্বাধীন দেশে নাগরিক এবং জনগণের যে প্রত্যাশা ছিল, সেই প্রত্যাশার মূল জায়গাগুলো, প্রিয় দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নাগরিকদের মানবাধিকার নিশ্চিত হয়নি। স্বাধীনতা এবং সাবভৌমত্বকে যারা দেশ শাসন করেছে তারা সেভাবে হেফাজত করতে পারেনি। বিরোধী মত এবং পথকে দমন করতে গিয়ে মানুষের অধিকার ও মানবাধিকারকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। স্বাধীন একটি দেশে ২৪-এ যা ঘটেছে তার সাক্ষী দেশের জনগণ ও বিশ^বাসী। এর আগে যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা এই দেশকে দু:শাসন উপহার দিয়েছেন। পুরোটা সময়জুড়ে মানুষ দু:স্বপ্নের মধ্যে বসবাস করেছে। হাজার জীবনের বিনিময় আর অসংখ্য মানুষের পঙ্গুত্ব, জেল এবং জুলুমের স্টিম রোলার জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতির বিচক্ষণ নেতৃবৃন্দকে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কাউকে বিচারিকভাবে আবার কাউকে বিচার ছাড়াই হত্যা করা হয়েছে। গুমের সংস্কৃতি এবং আয়নাঘরের সংস্কৃতি সংযোজন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জাতিসংঘের কমিটি এবং মানবাধিকার কমিশন মানবাধিকার লংঘনের জন্য বিগত সরকারকে স্পষ্টভাবে দায়ী করা হয়েছে।
দেশবাসীর উদ্দেশে জামায়াতের আমীর বলেন, বর্তমানে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে অবস্থান করছি। এই বাঁকটি আমাদের সফলভাবে অতিক্রম করতে হবে। বিশেষ করে গত কয়েকদিন ধরে ঘটে যাওয়া অনেকগুলো ঘটনা প্রিয় দেশবাসী এবং প্রবাসে যারা আছেন সবাইকে বিচলিত করে তুলেছে। তিনি বলেন, একটি দায়িত্বশীল সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুপ করে থাকতে পারে না। সংঘাত এবং কাদা ছুড়াছুড়ির মধ্য দিয়ে জাতিকে আর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না। সমস্যা যত বড়ই হোক আমরা বিশ^াস করি আলোচনার মধ্য দিয়ে সন্তোষজনক সমাধানে পৌঁছা সম্ভব। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী তার নিজস্ব অবস্থান থেকে কতিপয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দলের পক্ষ থেকে সর্বদলীয় বৈঠক আহ্বান জানানোর কথা বলা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা আশা করছি বৈঠক থেকে ভাল কিছু বের হয়ে আসবে। আমরা আশাবাদী আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সকল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের স্বার্থ এবং কল্যাণ যেখানে নিহিত রয়েছে; সেই বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়েই সকল পরিকল্পনা এবং কর্মসূচী গ্রহণ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট জাতির মধ্যে যে আতংক আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল; সকল মতপথের আন্তরিক সমর্থনের মাধ্যমে জাতি হিসেবে আমরা একটি সন্তোষজনক সমাধানে পৌঁছাতে পারবো।
জামায়াতের আমীর বলেন, ২৪ সালে যে পরিবর্তন হয়েছে তাতে বিশাল একটা আকাক্সক্ষার জায়গা রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ছাত্রসমাজ জীবন বাজি রেখে তারা রুখে দাঁড়িয়েছিল। জনগণও তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিল। জনগণ মনে করে বিগত সরকারের আমলে সকল অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। গত তিনটি নির্বাচনে জাতির সাথে তামাশা করা হয়েছে। এভাবে নির্বাচনের ব্যাপারে একধরনের অনীহা তৈরি হয়েছিল। তাই সামনে এমন একটি নির্বাচন হতে হবে; যে নির্বাচনের মধ্যে বাস্তবে জনগণের মতের প্রতিফলন ঘটে এবং জনগণের কাক্সিক্ষত প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়ে জনগণের নেতৃত্ব প্রদান করবে।
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ৯০এর গণআন্দোলনে গণঅভ্যুত্থানের পর যে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল তখন কিন্তু সংবিধানে এধরনের সরকারের কোন প্রবিধান ছিল না। কিন্তু সবগুলো রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সরকার গঠিত হয়েছিল এবং সেই সরকার একটি অর্থবহ নির্বাচন উপহার দিয়েছিল।
তিনি বলেন, এবার একটি অর্থবহ নির্বাচনের জন্য সংস্কার লাগবে। আমরা বলেছিলাম যে, সংস্কারের একটি রোডম্যাপ দেওয়া হউক। যে তিন মাসের ভেতর সংস্কার সম্পন্ন হবে। এরপরই নির্বাচনের একটা রোডম্যাপ দেওয়া হবে। তাহলে জনগণের মনে স্বস্তি এবং আস্থা তৈরি হবে। এতদিনে দুটির কোনটির রোডম্যাপই জনগণের সামনে আসেনি। এখান থেকেও কিছু সন্দেহ সংশয় জন্ম নিয়েছে। সরকারকে অনুরোধ করবো দুটি রোডম্যাাপ যথাশিগগিরই জনসম্মুখে প্রকাশ করা হউক। তাহলে আস্থা ফিরবে। জামায়াতের আমীর বলেন, আমরা কোন যেনতেন নির্বাচন চাই না। নির্বাচনী ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আবার যদি নির্বাচনী ব্যবস্থা ব্যাহত হয়; সেই নির্বাচন জনগণ কবুল করবে না। সেজন্য সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থেই দুটি রোডম্যাপ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
আওয়ামী লীগের অপরাধের বিচার চেয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের অত্যাচার নির্যাতনের বিচার শুরু হওয়া দরকার। পুরো বিচার তাদের কাছে প্রত্যাশা করে না। কিন্তু তা দৃশ্যমান হয়নি। এখানে জনগণের আশঙ্কা অপরাধের বিচার যদি না হয়, তাহলে অপরাধ চক্র বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ ভবিষ্যতে গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যেতে পারে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের উদাত্ত আহ্বান, বিচারের নামে আমাদের ওপর যে অবিচার করা হয়েছে সেটাও আমরা চাই না। আমরা চাই বিচারটা ফেয়ার হউক।
শূরা অধিবেশনে মানবিক করিডোর নিয়েও কথা বলেন জামায়াতের আমীর। তিনি যোগ করেন, হুট করে কোন কিছু করা যাবে না। এখন দেশে পার্লামেন্ট নাই। তাই এই ধরনের কোন উদ্যোগ দেশের জন্য কল্যাণকর হবে না। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ভেবে চিন্তে কাজ করতে হবে। কারণ দেশের বেশিরভাগ অর্থনীতির চাকা পরিচালিত হয় বন্দরকে কেন্দ্র করে। এজন্য অংশীজনের সাথে আলাপ করার পরামর্শ দেন তিনি।
সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নে দেশের এই শীর্ষ রাজনীতিবিদ বলেন, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে তাদের মর্যাদাপূর্ণ অবদান রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমাদের সেনাবাহিনী গড়ে উঠেছে। কোন বিতর্কিত কাজের মাধ্যমে সেনাবাহিনী বিতর্কিত হউক এটা আমরা চাই না। আমরা চাই এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অক্ষুণœ রাখতে। দেশ এবং জাতির সেবায় তারা নিয়োজিত থাকবেন; তাতে দেশেরও গৌরব, সেনাবাহিনীরও গৌরব। আমরা সেনাবাহিনীকে গৌরবের জায়গায় রাখতে চাই এবং এ জায়গা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত করবেন না, সেই আশা আমরা করতে চাই। সেনাবাহিনীকে নিয়ে কোনরূপ মন্তব্য না করার অনুরোধ জানান জামায়াতে ইসলামীর আমীর।
দেশের পরিবর্তনের ৯ মাস অতিবাহিত হয়েছে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন এই বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন। আমরা আমাদের মত দিয়েছি। তবে ওনাকে বাধ্য করতে চাই না। তিনি আমাদের প্রতিপক্ষ নন। আমাদের দায়িত্ব তাকে সহযোগিতা করা। আমরা অসহযোগিতা করিনি। আমরা সকল দলকে আহ্বান জানাই আসুন সবাই তাকে সহযোগিতা করি। এরপরও যদি এখানে সংকট তৈরি হয় তাহলে এর দায় আমরা কেউ এড়াতে পারবো না। দেশ ও জাতিকে আশাবাদী করতে সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমীর আরও বলেন, ফিলিস্তিনে দশকের পর দশক গাজায় বছরের পর বছর নির্যাতিত নিষ্পেষিত মানুষ। আমরা বিশ^ সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই, যারা মানবাধিকারে বিশ^াস করি, মানুষগুলোকে তাদের মানবাধিকার নিয়ে বাঁচতে দিন। তাদের অধিকার যদি হরণ করেন তাহলে মানবাধিকারের কথা আপনাদের মুখে মানায় না। যারা মানবাধিকার হরণ করবে তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। আমাদের দাবি যুদ্ধ বিরতি নয়, যুদ্ধ বন্ধ চাই। তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে। সিরিয়াতেও ঝামেলা হচ্ছে। তাদের ওপর বেআইনী হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হউক। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ারও আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।
দেশের জনপ্রত্যাশা পূরণের জন্য আরও ত্যাগ স্বীকার করার জন্য জামায়াত নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতে ইসলামীর আমীর। তিনি যোগ করেন, মানবিক এবং নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা কেবল আল্লাহর বিধানেই রয়েছে। এজন্যই আমাদের লড়াই। আমাদের সংগ্রাম। আমাদের চেষ্টা করতে হবে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন চাই। এজন্য দেশপ্রেমিক সকল শক্তির কাছে আকুল আবেদন একটি দুর্নীতিমুক্ত মানবিক দেশ গড়তে জনগণের সমর্থন পাওয়া আসল উদ্দেশ্য। এই নতুন স্বপ্নকে সামনে রেখে আমরা কাজ করছি। স্বাধীন দেশে একটি সোনালি সমাজ গড়ে তোলা দরকার। আল্লাহতায়ালার রহমত এবং জনগণের সহযোগিতায় গড়ে তুলতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।
সমাপনী বক্তব্য : সমাপনী বক্তব্যে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ খুবই সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী গত ২২ মে বিকালে দেশের এই সংকট উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করার জন্য তাৎক্ষণিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠক করে বিস্তারিত আলোচনা করেছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছে। তিনি আরও বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী দেশের সকল দল অন্তর্বর্তী সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেছে। জামায়াতে ইসলামী সমমনা দলগুলোর সাথে এব্যাপারে পরামর্শ ও মতবিনিময় করেছে। আমি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় দল-মত-নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের জনতাকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পাশাপাশি মহান রবের নিকট দোয়া করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ফেরাতে এবং দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় অতি দ্রুত সংস্কার ও নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করে বিচারকার্য দৃশ্যমান করা প্রয়োজন। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু না হলে জাতি আবারো গভীর সংকটে পড়বে। তাই নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। দেশের সকল অংশীজনের আন্তরিক সহযোগিতা ও পরামর্শের ভিত্তিতে দেশ সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।
দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এমন কোনো রুটি-রোজগারে জড়িয়ে না পড়ি যাতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। সংগঠনের কাজে সময় দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। সন্তানদেরকে চক্ষু শীতলকারী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। লেনদেনে স্বচ্ছতা থাকতে হবে। আমাদের মূল শক্তি হলো আল্লাহতাআলার উপর তাওয়াক্কুল। আল্লাহর ভয় ও জবাবদিহিতা নিয়ে আমাদের প্রতিটা কাজ আঞ্জাম দিতে হবে। এই অধিবেশনে এবং আমাদের পরিকল্পনায় কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে আল্লাহতাআলা শুধরে দিন এবং তাঁর রহমত ও করুণা দিয়ে আমাদেরকে ঢেকে রাখুন।