ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, তার দেশ দুই হাজার ৩৬৯ বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠাতে প্রস্তুত। গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।

গত বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জয়সোয়াল জানান, ভারত বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে, যেন ভারতে থাকা অবৈধ বাংলাদেশীদের চিহ্নিত করে দ্রুত ফেরত নেয়ার ব্যবস্থা করা যায়। তিনি বলেন, যারা ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন তারা বাংলাদেশী হোক বা অন্য কোনো দেশের তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মুখপাত্র বলেন, ভারতে অনেক বাংলাদেশী নাগরিক রয়েছেন, যাদের ফেরত পাঠানো প্রয়োজন। আমরা বাংলাদেশ সরকারকে তাদের জাতীয়তা যাচাইয়ের অনুরোধ করেছি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে দুই হাজার ৩৬৯ জনের বেশি ব্যক্তির একটি তালিকা রয়েছে, যাদের ফেরত পাঠানো হবে। তাদের মধ্যে অনেকেই কারাভোগ শেষ করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে জাতীয়তা যাচাই ২০২০ সাল থেকে ঝুলে আছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে আসামের দক্ষিণ সালমারা জেলায় অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশী নাগরিককে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে নিরাপত্তা বাহিনী পরে তাদের দেশে ফেরত পাঠায়।

কিছু দিন ধরে ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো (পুশ ইন) হচ্ছে। এদের মধ্যে অনেক রোহিঙ্গাও আছেন। ভারত থেকে এই ‘পুশ ইন’-এর নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়ে ভারতকে একাধিক চিঠি লিখেছে বাংলাদেশ সরকার। ভারতকে এটা বন্ধ করার অনুরোধও জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ভারতের অভিমত জানতে চেয়ে আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বাংলাদেশকে বলা হয়েছে অবৈধ নাগরিকদের চিহ্নিতকরণের বিষয়টি দ্রুত সেরে ফেলতে। জয়সোয়াল বলেন, ভারতে যারা অবৈধভাবে বসবাস করছেন, তারা যে দেশের নাগরিকই হোন, স্থানীয় আইন ও রীতি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এই অবৈধ বসবাসকারীদের মধ্যে বহু বাংলাদেশী ফেরত পাঠানোর অপেক্ষায় রয়েছেন। এদের নাগরিকত্ব যাচাই করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে বলা হয়েছে। সূত্র: ডিএনএ ইন্ডিয়া ও হিন্দুস্তান টাইমস।