তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। আগামীর বাংলাদেশ হবে তারুণ্যের দক্ষতানির্ভর বাংলাদেশ, যেখানে তরুণরা তাদের মেধা ও দক্ষতা দিয়ে রাষ্ট্রকে নিয়ে যাবে এক অনন্য উচ্চতায়। তরুণদের নেতৃত্বেই গড়ে উঠবে স্বপ্নের বাংলাদেশ। বৈষম্যবিরোধী কোটা আন্দোলন রূপ নেয় গণ-আন্দোলনে। যার ফলাফল স্বৈরাচারের পতন এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুযোগ। পরিসংখ্যান মতে, দেশের মোট জনসংখ্যার ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ তরুণ। ফলে আগামীর বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি সবই নির্ভর করছে তরুণসমাজের ওপর। তারুণ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে গড়ে তুলতে হবে বৈষম্যহীন এক নতুন বাংলাদেশ। আগামীর বাংলাদেশ হবে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত এবং লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতিমুক্ত। বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

গত বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর রামপুরা একরামুন্নেসা ডিগ্রী কলেজ মিলনায়তনে বিভাগীয় তথ্য অফিস ঢাকা, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। কলেজের অধ্যক্ষ এস. এম. সোহরাওয়ার্দী সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, বিভাগীয় তথ্য অফিস ঢাকা’র পরিচালক মোঃ শাহ আলম, বাংলাদেশ সচিবালয় জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সহসভাপতি মুহাম্মদ নূরে আলম, কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সালেহা সুলতানাসহ আরও অনেকেই।

বিভাগীয় তথ্য অফিস ঢাকা’র পরিচালক মোঃ শাহ আলম বলেন, জাতির মেরুদণ্ড হলো শিক্ষা। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা দরকার। মুখস্থ ও চাকরিনির্ভর পড়াশোনা থেকে বেরিয়ে এসে বুদ্ধিদীপ্ত, তথ্য প্রযুক্তি, সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে। পূর্ণাঙ্গভাবে মনোযোগ দিতে হবে উচ্চশিক্ষা, তথ্য প্রযুক্তি ও গবেষণায়। প্রণোদনা বাড়াতে হবে তথ্য প্রযুক্তি ও গবেষণা খাতে। আগামীর বাংলাদেশের সমাজ হতে হবে পুরোপুরি জ্ঞানভিত্তিক ও তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ তৈরিতে এগিয়ে আসতে হবে তরুণদের।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের কারণে আজ আমরা বাংলায় কথা বলছি। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে আমাদের স্বাধীনতা তরুণদের হাত ধরেই এসেছে। তরুণরাই আগামীর দিক নির্দেশক। জুলাই ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানের পরে যখন পুলিশ ছিলোনা তখন তরুণরাই ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করেছে এবং বাজার মনিটরিং করেছে। সাথে সাথে তারা নিজেরাও আইন সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। তরুণদের শিক্ষার সাথে সাথে কারিগরি শিক্ষা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে আগ্রহী করে গড়ে তুলতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সকলকে রুখে দাঁড়াতে হবে। সকল ক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। তরুণদের হাত ধরেই জুলাই ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত রাষ্ট্রে যেন বৈষম্য ও স্বৈরশাসন তৈরি না হয় সেদিকে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। তরুণদের সকল ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তারুণ্য নির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণদের পাশাপাশি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।