দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদারের করা মানহানির মামলায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাইরুল আলম এবং আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ঢাকার মহানগর হাকিম নাজমিন আক্তার গতকাল রোববার এ আদেশ দেন বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী আনোয়ারুল ইসলাম জানান।
এদিন দুই আসামির আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য ছিল। তারা আদালতে না আসায় বিচারক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এ মামলার আরেক আসামি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ জামিনে আছেন। এদিন তিনি আদালতে হাজির হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। তবে বিচারক তাকে স্থায়ী জামিন না দিয়ে পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
গত ২৩ মার্চ এই তিন জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন আবদুল হাই শিকদার। আদালত সেদিন আসামিদের হাজির হতে সমন জারি করে। পরে ২৮ এপ্রিল আত্মসমর্পণ করে জামিন পান মাহবুব মোর্শেদ। মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৭ মার্চ মাহবুব মোর্শেদ তার ফেইসবুক আইডিতে একটি ‘মনগড়া কবিতা’ পোস্ট করেন। সেটি কবি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারের বলে পোস্টে লেখেন।
পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, বাংলাদেশের এক কবি কীভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে অবমাননা করেছেন, তা পড়ে দেখার অনুরোধ জানাই। মন থেকে এত ঘৃণা পোষণ করার পরও এমন কবিরা বিএনপির সুবিধাভোগী হয়ে থাকতে চান। মামলায় বলা হয়, খারুল ইসলাম গত ১৬ জানুয়ারি তার ফেইসবুক আইডি থেকে একই কবিতা পোস্ট করেন এবং লেখেন, শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা কবিতাটি তিনি (আব্দুল হাই শিকদার) এরশাদকে উপহার দিয়েছিলেন। সাইফুল আলমকে সরিয়ে এখন তিনি যুগান্তর সম্পাদক। সাংবাদিকরাই কালে কালে শক্তিশালী হয়েছে, আবারও প্রমাণিত সত্য! # জয়তু-সাংবাদিকতা
এরপর আসাদুজ্জামান আসাদ তার ফেইসবুকে লেখেন, আমাদের জাতীয়তাবাদী প্রাণপ্রিয় কবি ও নেতা, বর্তমান যুগান্তর সম্পাদক জনাব আব্দুল হাই শিকদার ভাইয়ের লেখা কবিতাটি আমার মেসেঞ্জারে পেয়েছি। জাতীয়তাবাদী এক সহকর্মী এটি আমাকে দিয়েছেন। আমি কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এটি পোস্ট করলাম। কবিতাটি স্বৈরাচার এরশাদকে দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগে বলা হয়, এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, অসত্য, কাল্পনিক, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর কবিতা এবং পোস্টের মাধ্যমে বাদীর সম্মানহানি করা হয়েছে।