ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘সন্ত্রাসবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ চার দফা দাবি তুলে ধরেন তারা।

চার দফা দাবিগুলো হলো- দ্রুততম সময়ে শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকা-ের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা, দায়িত্বগ্রহণের পর গত নয় মাসে ক্যাম্পাসে দুই হত্যাকা-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে ভিসি ও প্রক্টরের পদত্যাগ, গত নয় মাসে তোফাজ্জল হত্যাকা-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিঘœকারী সকল ঘটনার যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাস এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাঠামোগত ও নীতিগত সংস্কার : আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কার, মাদক-সন্ত্রাস দমন, নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও উদ্যানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করাসহ সার্বিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান মিশু। তিনি বলেন, এই হত্যাকা-ের একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগী তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত খুনিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। তদন্তের প্রতিটি ধাপ জনসম্মুখে তুলে ধরা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে তাদের দায়িত্বহীনতার জন্য জবাবদিহির আওতায় আনা। তিনি আরও বলেন, সাম্য ছিল একজন সদা সক্রিয় তরুণ, যিনি গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। এই হত্যাকা- তাই ব্যক্তিগত শোক নয়, এটি আমাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বুকে এক রক্তাক্ত আঘাত। আমরা এই হত্যাকা-ের ন্যায় বিচার চাই। পাশাপাশি আমরা চাই এই হত্যার পেছনে কাঠামোগত ব্যর্থতা ও প্রশাসনিক গাফিলতির ও স্থায়ী সংস্কার। উল্লেখ্য,গত ১৩মে রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অভ্যন্তরে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে হত্যার শিকার হন সাম্য। সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।