অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) স্থগিতের (ব্লক) আদেশও এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিব গতকাল শনিবার এসব আদেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও এনআইডি ব্লক চেয়ে দুদকের পক্ষে আবেদন করেন সংস্থার উপপরিচালক মিনু আক্তার সুমি। আবেদনে বলা হয়, মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, তদবির বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিদেশে পালিয়ে যেতে পারে। তাই সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও এনআইডি ব্লক করা প্রয়োজন।
উপদেষ্টা হওয়ার পর নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু মোয়াজ্জেমকে সহকারী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন আসিফ। কিন্তু মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি এপিএস হিসেবে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদবির ও টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এমন অভিযোগের মধ্যে গত ২১ এপ্রিল তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর ২৫ এপ্রিল উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব নিজেই সংবাদমাধ্যমে বলেন, সাবেক এপিএসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের জন্য তিনি দুদকে অনুরোধ জানিয়েছেন। এর দুদিন পর ২৭ এপ্রিল ‘মার্চ টু দুদক’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যুব অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে মিছিল নিয়ে দুদকে গিয়ে স্মারকলিপি দেন। তারা উপদেষ্টাদের এপিএস ও পিওদের দুর্নীতি তদন্তের দাবি জানান। সবশেষ বৃহস্পতিবার দুদক কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মোয়াজ্জেমকে।
দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, মোয়াজ্জেম হোসেনের ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তি ও অন্যান্য লেনদেনের বিষয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার। আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া গত বছরের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। বর্তমানে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন।
যে-ই দুর্নীতিতে জড়াবে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : এদিকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বলেছেন, অভিযোগ ও গুঞ্জন ওঠার পর তিনি নিজেই দুদককে বিষয়টি অনুসন্ধান করতে অনুরোধ জানান। এমনকি সাবেক এপিএস-সংক্রান্ত অনুসন্ধানে মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করতেও নির্দেশ দেন।
ফেসবুক পেজে পোস্টে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘কেউ যদি দুর্নীতিতে জড়ায়, সে যে-ই হোক, রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এটাই জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের অঙ্গীকার। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্ব আমাদের নতুন বাংলাদেশের পথে এগিয়ে চলার প্রমাণ।’
পোস্টে আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘শুরু থেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর পার্সেপশন তৈরির চেষ্টা চলছে। কিন্তু আমার কাছে সত্য ও নৈতিক সাহসই মুখ্য। সেই কারণে নিজেই অনুসন্ধানের অনুরোধ করেছি। আশা করি, দুদক নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে তদন্ত পরিচালনা করবে এবং সত্য উদ্ঘাটিত হবে। আমরা সততা, দায়বদ্ধতা এবং সুশাসনের এমন দৃষ্টান্ত রেখে যেতে চাই যা, অনুকরণীয় হবে।’