আন্দোলনকারীদের সাথে পল্লী বিদ্যুতের কোন সম্পর্ক নেই : পবিস

সাত দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু করেন তারা। তবে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) জানিয়েছে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এই আন্দোলনকারীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে ৭ দফা দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় বুধবার থেকে শহীদ মিনারে কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

অবস্থান কর্মসূচি পালনকারীরা জানান, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) মধ্যে বিদ্যমান সংকট নিরসনে গত বছরের ২৩ অক্টোবর পল্লী বিদ্যুৎ সংস্কারে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেন। কিন্তু দীর্ঘ সাত মাস অতিবাহিত হলেও আজ অবধি প্রতিবেদন দাখিল বা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ কর্তৃক ‘এক ও অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আরইবি-পবিস একীভূতকরণ’ সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক ওই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য মন্ত্রীপরিষদ বিভাগকে জানানো হয়েছে।

অপরদিকে সমিতির কর্মীদের উপর স্বৈরাচারি পন্থায় আরইবির জুলুম-নির্যাতনের মাত্রা চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্দোলনের অজুহাতে এখন পর্যন্ত ২৯ জনকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত, মামলা-গ্রেফতার-কারাবন্দি, অর্ধশতাধিক কর্মীকে বরখাস্ত, স্ট্যান্ড রিলিজপূর্বক সংযুক্ত এবং নিজ জেলা থেকে গড়ে ৪০০-৫০০ কি.মি দূরে শাস্তিমূলক বদলি করা হচ্ছে। এছাড়া স্মারকলিপির জন্য গণস্বাক্ষর কার্যক্রম করায় সাতজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত চার মাসে সাড়ে চার হাজারের বেশি কর্মীকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। সর্বশেষ গত এক সপ্তাহে দেড় হাজারের অধিক লাইনক্রুকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে (নিয়োগপত্র অনুযায়ী চাকরি বদলিযোগ্য না) হয়রানিমূলক বদলি আদেশ জারি করা হয়েছে, বাদ যায়নি মৃত ব্যক্তি, গুরুতর অসুস্থ ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত বিদ্যুৎ কর্মীও। চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন কয়েকজন নারী কর্মী। এছাড়া ফেসবুকে পোস্টের কারণেও পাঁচজনকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।”

এদিকে গতকাল বিকেলে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের এক বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড একটি সংবিধিবদ্ধ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও এর আওতাধীন ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী দেশের প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহককে বিদ্যুৎ সেবা প্রদানের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, জুলাই অভ্যুত্থানের পরপরই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কতিপয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে গত বছরের ১৭ অক্টোবর সারা দেশে ব্ল্যাক আউট করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দেশকে অকার্যকর করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত করে, যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।

এ পরিস্থিতিতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কতিপয় দুষ্কৃতকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয় এবং তাদের এই দেশদ্রোহী কর্মকান্ডের জন্য সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরও তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে বিভিন্ন বিশৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং সম্প্রতি তারা অনৈতিকভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টির লক্ষ্যে ২১ মে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি করে, যার মাধ্যমে জনমনে পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

বার্তায় আরও জানানো হয়, প্রকৃতপক্ষে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর এই নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের সঙ্গে কোনো রূপ সম্পৃক্ততা নেই। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সব গ্রাহকসহ দেশের সর্বস্তরের জনগণকে তাদের এই বিশৃঙ্খল কার্যকলাপ সম্পর্কে সচেতন থাকা ও বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।