সিলেট ও মৌলভীবাজার সীমান্ত দিয়ে ১৫৩ জনসহ তিন জেলায় আরও ১৭২ জনকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে তাদের আটক দেখিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার রাত ২টা থেকে গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সীমান্ত দিয়ে তাদের ‘পুশইন’ করা হয়েছে।

আটকদের মধ্যে ৪৯ জনপুরুষ, ৫৩ জন নারী ও ৫১ জন শিশু বলে জানা গেছে। তাদের প্রায় সবাই কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা ও দীর্ঘদিন ধরে ভারতে কাজ করছিলেন। বিজিবি বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের (৫২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান বলেন, শনিবার কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে ২১ জন পুশইনের পর সীমান্তে নিরাপত্তা ও টহল জোরদার করা হয়। এরপরও ভোররাত ২টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে ৫ পয়েন্ট দিয়ে ১৫৩ জনকে পুশইন করে বিএসএফ। এর মধ্যে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা দিয়ে ৩২ জন এবং মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা দিয়ে ১২১ জনকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয় বলে জানান বিজিবি কর্মকর্তা মেহেদী।

এদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গতকাল সকালে মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১৯ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভোরে মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর-মাজপাড়া সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশইন করা হয়। মুজিবনগর থানা পুলিশ বাংলাদেশ সীমান্তের কেদারগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় মুজিবনগর ক্যাম্পের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। আটককৃতদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও পাঁচজন মহিলা এবং নয়জন শিশু।

আটকৃকতরা হলেন- মোমেনা খাতুন ও তার তিন ছেলে মোজাম্মেল হক (২৩), মোস্তাক আহমেদ (১৯) ও কাবিল (১১), মাইনুল ইসলাম ও তার স্ত্রী কাঞ্চন বেগম এবং তাদের তিন ছেলে-করণ (১৪), রাবুল (৭) ও মরিয়ম (৪), নিতাই চন্দ্র পাল, তার স্ত্রী গীতা রানী পাল এবং তাদের তিন মেয়ে পার্বতী পাল (১৫), পূজা রানী পাল (৭) ও আরতি পাল (৩), আমিনুল ইসলাম তার স্ত্রী পারুল খাতুন এবং তাদের দুই মেয়ে আমেনা (৪) এবং আরফিনা (১১)। আটককৃতরা ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে বসবাস করছিলেন। ভারতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ছয় থেকে সাত দিন আগে ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করে এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর কারাগারে রাখে। মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, আটককৃতদের কেদারগঞ্জ বাজারে বিআরটিসি কাউন্টারে অবস্থান করছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।