জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে খুনিদের অবিলম্বে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। যৌথ বিবৃতিতে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, বাংলাদেশে অভ্যুত্থান-পরবর্তী গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য বিচারপ্রক্রিয়ায় গতি নিয়ে আসা এবং সংস্কার ও নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা হলো অভ্যুত্থানকারী সব রাজনৈতিক শক্তির অনুমোদন ও সমর্থন। ফলে এই ঐক্যের শক্তির ওপর দাঁড়িয়েই একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নির্বাচনের পথরেখা তৈরি করতে হবে।

জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব প্রভৃতি বিষয়ে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করে বিবৃতিতে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতেই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠাই রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সব প্রথা, প্রতিষ্ঠান, আইন ইত্যাদির কাজ। জনগণের কাছে সে অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী বাংলাদেশে যে জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখার চেষ্টা করা এখন রাজনৈতিক পক্ষগুলোর জন্য জরুরি কর্তব্য।

সংঘাত নয় বরং এই ঐক্যের পথেই বাংলাদেশ তার নতুন রাজনৈতিক গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণসংহতি সব দলকে সংঘাত নয় বরং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পার্থক্য কমিয়ে আনার এবং পরস্পরের অবস্থানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিচার, সংস্কার, নির্বাচন বিষয়ে একটি জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়।

অবিলম্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুস্পষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।

দলটির নেতারা বলেন, সুস্পষ্ট তারিখ ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন সংস্কার করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করুন।

‘কথিত মানবিক করিডরের নামে বাংলাদেশকে সাম্রাজ্যবাদি যুদ্ধে জড়ানোর চক্রান্ত ও চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদ’ শীর্ষক বিক্ষোভ সমাবেশে সিপিবির ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও বিভিন্ন থানার নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন (প্রিন্স) বলেন, ‘সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মানবিক করিডর দেবে। কার সঙ্গে কথা বলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে? দেশের জনগণকে বাদ দিয়ে করিডর দিয়ে দেবেন? অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।’

অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত সরকার নয় উল্লেখ করে সিপিবির এই নেতা বলেন, ‘আপনারা কি নির্বাচিত সরকার? গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তিতে এসে আমরা অন্তর্বর্তী সরকার বানিয়েছি। সব দায়িত্ব আপনাদের নয়। নির্বাচনের নামে কালবিলম্ব করে আপনাদের আসল উদ্দেশ্য করিডর দেওয়া, বন্দর দেওয়া। তাই হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, আপনারা আলোচনার নামে নির্বাচনকে বিলম্ব না করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনের সুস্পষ্ট তারিখ ঘোষণা করে, নির্বাচন কমিশন সংস্কার করে ২৪-এর আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করুন।

সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, রাখাইনে মানবিক করিডর দিলে বাংলাদেশ দখল হয়ে যাবে। সরকার যদি সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, সবাইকে নিয়ে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ...চট্টগ্রাম বন্দরের যে সক্ষমতা তার থেকে এখন বেশি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। তাহলে কেন বিদেশিদের হাতে আমরা এ বন্দর তুলে দেব। সরকারের প্রতি আহ্বান থাকবে, মানবিক করিডর দিয়ে দেশকে হুমকির মুখে ফেলে দেবেন না।