মুগ্ধসহ ১১ হত্যা মামলা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন রাজধানীর উত্তরায় মীর মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৬ আসামীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২০ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

ট্রাইব্যুনালে গতকাল ডিসচার্জ চেয়ে শুনানি করেন আসামীপক্ষের আইনজীবীরা। এ মামলায় নিজেদের মক্কেলদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই দাবি করে অব্যাহতি চান তারা। টানা তিন কার্যদিবসে তাদের এ শুনানি হয়।

শুনানি শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য সময় চায় প্রসিকিউশন। পরে আগামী ২০ আগস্ট দিন ধার্য করেন আদালত।

প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, তারেক আবদুল্লাহ, শাইখ মাহদী, মঈনুল করিম, মামুনুর রশিদ, জহিরুল আমিনসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

এদিন সকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেনÑ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. শাহ আলম ও তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী।

পলাতকরা হলেনÑ ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, উত্তরা বিভাগের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর, উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলী, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) মাহমুদুল হাসান, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক কনস্টেবল মো. আবু ছায়েম, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউদ্দিন আল সোহেল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর মো. ফরিদ আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর ডিএম. শামীম, সাবেক কাউন্সিলর মো. আনিছুর রহমান নাঈম, সাবেক কাউন্সিলর মো. আফছার উদ্দিন খান, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক এসআই খালেদ আনোয়ার, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক এএসআই মো. রোকনুজ্জামান, উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুরতাফা বিন ওমর ও তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন।

এর আগে, ২১ জুলাই ২৬ আসামীর বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন জানিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। ওই দিন এ মামলায় আনা দুটি অভিযোগ পড়ে শোনান প্রসিকিউটর তামিম। একইসঙ্গে ঘটনার বীভৎসতা ও মুগ্ধসহ অন্যদের হত্যার বর্ণনা তুলে ধরেন। এছাড়া একই দিন নিজের মক্কেলদের ডিসচার্জ চান স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন ও এম হাসান ইমাম।

প্রসিকিউশনের প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকা মহানগরের উত্তরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নির্বিচারে গুলী চালিয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এমবিএ শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাতজনকে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে উবারচালক মোখলেছুর রহমান ওরফে দুর্জয়কে পুলিশের এপিসির চাকায় পিষ্ট করে হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। একই ঘটনায় মেহেদী হাসানসহ পাঁচজনকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলী করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ রয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগে অনুযায়ী ১৯ জুলাই একই এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুনরায় নির্বিচারে গুলী চালিয়ে রিদোয়ান শরীফ রিয়াদ জয়সহ চারজনকে হত্যা করা হয়। এছাড়া রাইসুল রহমান রাতুলকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলী করে গুরুতর আহত করা হয়। দুটি অভিযোগেই এসব ঘটনাকে পরিকল্পিত, ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন।