মাত্র ৬ বছর বয়সে ফ্যাসিবাদী সরকারের পুলিশের বুলেটে জীবন দিয়েছেন শহীদ জাবির ইব্রাহিম। বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনের পটভূমিতে ঢাকার উত্তরা এলাকায় বিজয় মিছিল চলাকালীন পুলিশের গুলীতে নিহত হয় এই কোমলমতি শিশু।

জাবির ইব্রাহিম ২০১৮ সালের ১৯ মে, সোমবার ঢাকার দক্ষিণখান থানার পশ্চিম মোল্লারটেক এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কবির হোসাইন একজন বেসরকারি মোবাইল রিটেইলার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং মাতা রোকেয়া বেগম একজন গৃহিণী। পরিবারের চার সদস্য নিয়ে তারা পৈতৃক একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।

দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে জাবির ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। বড় বোন জুমাইনা কবির নেহা ও বড় ভাই জুহারের মাহতাব আবদুল্লাহ উভয়ই শিক্ষার্থী। কেসি মডেল স্কুল ও কলেজের ইংরেজি ভার্সনের নার্সারির ছাত্র জাবির ছিলেন মেধাবী, শান্ত স্বভাবের ও সৃজনশীল। তিনি পুরনো জিনিস দিয়ে খেলনা বানাতে পারদর্শী ছিলেন এবং ছোটবেলা থেকেই আর্মি অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।

২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় থেকেই শিশু জাবির আন্দোলনে অংশ নিতে আগ্রহী ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা শুরুতে তাকে নিরুৎসাহিত করলেও পরবর্তীতে সরকার পতনের খবরে উত্তরা এলাকায় মিছিল দেখতে মা-বাবার সঙ্গে রওনা দেন জাবির। সঙ্গে ছিলেন তার চাচা, আইনজীবী নাজমুল হোসেন।

বিকাল ৪:৩০টার দিকে উত্তরা পূর্ব থানার পুলিশ ৪ নম্বর সেক্টরের বাইতুস সালাম মাদরাসা গেইটের কাছে উপস্থিত জনতার দিকে গুলী ছোড়ে। এ সময় দৌঁড়াতে গিয়ে জাবির পড়ে যায় এবং একটি গুলী তার উরুতে বিদ্ধ হয়। বাবার কোলে করে দ্রুত কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসকেরা রক্তের ব্যবস্থা করতে বললেও ক্রস-ম্যাচিংয়ে সময় লেগে যায়। অবশেষে সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে শহীদ জাবির শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মা রোকেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ওর বাবা ওকে রক্তাক্ত অবস্থায় কোলে নিয়ে দৌড়াতে লাগলেন। পরে আমি কোলে তুলে নেই। কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরেও জাবিরকে বাঁচাতে পারিনি। আল্লাহ যেন ওকে জান্নাত নসিব করেন।

পরদিন ৪ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন কবরস্থানে জানাজা শেষে দাফন করা হয় শহীদ জাবিরকে।

শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মৃত্যু আমাদের জাতীয় বিবেককে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। একটি রাষ্ট্র যখন নিজ সন্তানের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তখন তা কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, একটি স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের নির্মম অপমৃত্যু।