শুল্ক-কর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থ অক্ষুণœ রেখে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। রাজস্ব খাতের প্রশাসন আলাদা করার কাঠামো কীভাবে হবে, তা নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে অধ্যাদেশ সংশোধন করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের অপসারণসহ চার দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চরম অসহযোগিতার অভিযোগ এনেছে এই পরিষদ। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় যান পরিষদের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তারা প্রধান উপদেষ্টার এপিএস সাব্বির আহমেদের কাছে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন।
ঐক্য পরিষদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কর পরিদর্শক মুতাসিম বিল্লাহ, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. শফিউল বসর, উপ-কর কমিশনার শিহাবুল ইসলাম কুশল, অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা এবং অতিরিক্ত কমিশনার (কাস্টমস) হাছান মুহম্মদ তারেক।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত মূল দাবিগুলো হলো যথাক্রমে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্তির জারিকৃত অধ্যাদেশ অবিলম্বে বাতিল, বর্তমান এনবিআর চেয়ারম্যানকে অপসারণ, রাজস্ব সংস্কার বিষয়ক পরামর্শক কমিটির সুপারিশ জনসাধারণের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং সব অংশীজনের মতামত নিয়ে টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কার নিশ্চিত করা ।
স্মারকলিপিতে তাদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলা হয়, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক হিসেবে তারা আশা করেন, দেশ, জনগণ ও অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার প্রেক্ষাপটে উন্নয়নের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম, বাস্তব জ্ঞাননির্ভর, দক্ষ ও কার্যকর একটি রাজস্ব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সদ্য জারিকৃত অধ্যাদেশটি বাতিলসহ তাদের দাবিসমূহ বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্তি করার অধ্যাদেশ বাতিল করা নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন ও কলমবিরতি চালিয়ে যাচ্ছিলেন এনবিআরের কর্মকর্তারা।
এদিকে সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে অধ্যাদেশ সংশোধন করা হবে বলে জানায় অর্থ মন্ত্রণালয়। গতকাল পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয় চারটি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এক, যেহেতু অধ্যাদেশটি প্রয়োজনীয় সংশোধন করে বাস্তবায়ন করার কাজটি অনেক সময়সাপেক্ষ, এনবিআরের সব কার্যক্রম আগের মতো অব্যাহত থাকবে এবং কাস্টমস ও আয়কর ক্যাডারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদ্যমান ব্যবস্থায় সব কার্যক্রম সম্পাদন করবেন; দুই, বিসিএস (কর) ও বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডারের স্বার্থ অক্ষুণœ রেখে পৃথককরণের প্রশাসনিক কাঠামো কীভাবে প্রণীত হবে, তা এনবিআরসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে; তিন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সব কার্যক্রম আগের মতো অব্যাহত থাকবে; চার, কাস্টমস ও কর ক্যাডারের সদস্যদের কোনো পদ-পদবি কমানোর পরিকল্পনা সরকারের নেই; বরং সংস্কারকাজ সম্পাদন হলে তাঁদের পদসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং সচিব পদে নিয়োগসহ পদোন্নতির সুযোগ আরও অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আজ এনবিআরে অবসরপ্রাপ্ত দুজন সদস্যের মধ্যস্থতায় দিনব্যাপী দফায় দফায় আলোচনার একপর্যায়ে সমঝোতা প্রস্তাব সম্পূর্ণ মেনে নেওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।