দশম শ্রেণির ছাত্র, মাত্র ১৬ বছরের কিশোর-শাহরিয়ার খান আনাস, যে নামটি এখন ছাত্রজনতার বিপ্লবেরর প্রতীক হয়ে উঠেছে। গেন্ডারিয়ার বাসা থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গোপনে বেরিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের গুলীতে শহীদ হন এই কিশোর।
চানখাঁরপুল এলাকায় ছাত্রদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের মধ্যে গুলীবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় আনাসের। জীবনের শেষ মুহূর্তে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মৃত্যুর আগে বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তার বাবা-মায়ের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি লিখে রেখে যান। চিঠিতে আনাস লেখেন, “আমি যদি বেঁচে না ফিরি, তবে গর্বিত হইয়ো। জীবনে প্রতিটি ভুলের জন্য ক্ষমা চাই।”
আনাস ছিলেন যাত্রাবাড়ী গেন্ডারিয়ার আদর্শ একাডেমির দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবেন। তার জীবন এবং আত্মত্যাগ আজ হাজারো মানুষের হৃদয়ে রেখাপাত করেছে। বাবার নাম সাহরিয়ার খান পলাশ এবং মায়ের নাম সানজিদা খান দীপ্তি।
আনাসের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি ছিল সুপরিকল্পিত। প্রাইভেট টিউটরের কাছ থেকে রোডম্যাপ জেনে রাখা, ব্যাগে জামাকাপড় ও ওষুধ নেওয়া, এমনকি অপরিচিত কারও বাসায় আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতিও ছিল তার। তবুও তার ছোট্ট শরীর থামাতে পারেনি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গুলী।
চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ টিয়ারগ্যাস এবং রাবার বুলেট ছোঁড়ে। আনাস তার কয়েকজন সঙ্গীর সাথে পালিয়ে নিমতলির গলিতে আশ্রয় নেন। কিন্তু পুলিশের ক্লোজ রেঞ্জের গুলীতে গুলীবিদ্ধ হন তিনি। গুলীর পর কয়েক কদম হেঁটে পড়ে যান রাস্তায়। পরে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হলেও তার মৃত্যু হয়।
আনাসের পকেট থেকে পাওয়া যায় একটি পুরনো বাটন ফোন, যেখানে সংরক্ষিত কয়েকটি নম্বরের মধ্যে ছিল তার মায়ের নম্বর। সেখান থেকেই খবর পৌঁছায় তার পরিবারের কাছে। মা-বাবা ছুটে গিয়ে হাসপাতালে পান পতাকায় মোড়ানো সন্তানের নিথর দেহ।
একই এলাকার আরেক শহীদ শেখ মেহেদির সাথে তার জানাজা সম্পন্ন হয় এবং জুরাইন কবরস্থানে দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ বলেন, আমার ছেলে শহীদের মর্যাদা পাক, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাক। তার স্বপ্ন ছিল ইঞ্জিনিয়ার হবে। এখন সে আমাদের সকলের গর্ব।
আনাসের আত্মত্যাগ আজকের প্রজন্মের জন্য একটি উদাহরণ। যতদিন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন শহীদ আনাসের রক্তের ঋণ আমাদের উপর বর্তাবে।