বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস ক্ষমতায় থাকার জন্য মৌলবাদীদের একখানে করেছেন। গতকাল রোববার দুপুরে এক আলোচনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানের নানা পদক্ষেপের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি এমন অভিযোগ তোলেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে দেশ বাঁচাও বন্দর বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়।
সংগঠনটির প্রধান সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে ও বিএলডিপির মহাসচিব তমিজ উদ্দিন টিটুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টি(কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশের জাসদ সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির একাংশের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিম, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
গয়েশ^র বলেন, আমরা ন্যাশনালিস্ট পার্টি দেখতেছি, এখন জাতীয়তাবাদী শক্তির সাথে যারা আছে অর্থাৎ সোশ্যাল ইকোনমী এবং ক্যাপিটাল ইকোনমী এটাই তো দ্বন্দ্ব, বাম-ডান এর বেশি কিছু না। এখন আরেকটা ন্যাশনালিস্ট পার্টির কাছে মৌলবাদী যেমন, যারা প্রগতিশীল বাম রাজনীতি মৌলবাদী করে তারা তেমনই একই চারা, এটা ড ইউনুস ডিভাইড করে দিয়েছেন। মৌলবাদীদের একখানে করে ফেলছে ক্ষমতায় থাকার জন্য। পৃথিবীতে যে শক্তিকে আপনি (অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস) সন্তষ্টু করতে চান, সারা পৃথিবীতে মৌলবাদীর জন্মদাতা-মদদদাতা ওই দেশটা(যুক্তরাষ্ট্র)। তারা লাদেনের জন্মদাতা আবার তারাই লাদেনের শেষ করা।
গয়েশ্বর বলেন, তারপরও আমরা চাই, ড. ইউনূসই সফল হোক, ড. ইউনূসের সফল মানেই তো আমাদের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের একটা সফলতা। আজকেও বলে যাচ্ছি, গণতন্ত্র জনগণের মৌলিক অধিকার, জনগণের মালিকানা, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত করার দিনটি না দেখে ঈম্বর যে আমাকে চিতায় না তুলে।
গয়েশ্বর বলেন, এই বৈষ্যম বিরোধী আন্দোলন যারা করেছে তাদের ৯০% লেখাপড়ায় চলে গেছে। কেউ ফ্লিডে নাই। আজকে যারা নাকি জুলাই-আগস্টের এগারো দিনের আন্দোলনে যারা মুকুট পড়লো অর্থাৎ ছাত্রদের সেই ঐতিহ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলো স্বাভাবিক কারণেই তো তারা আমাদের কাছে অনেক বড়, অনেক বড়। কিন্তু তারা নিজেরা নিজেরা ছোট হচ্ছে। যে জাতি তাদেরকে মাথা তুলেছে সেই তারা যদি মাথা থেকে পায়ের তলে পড়ে যায় সেজন্য কি জাতি দায়ী? তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরাও আন্দোলন করেছি, মন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি সচিবালয় চিনি নাই। কিন্তু উনারা(বৈষ্যমবিরোধী ছাত্ররা) ডেইলি সচিবালয় যায় কেনো? ডিসি অফিসে যায় কেনো? এসপিদের ধমকায় কেনো? তারা টিএনও অফিসে বসে থাকে কেনো? তারা ওসি টেবিলে বসে থাকে কেনো?
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ভোটের কথা বললে উনাদের কেনো জানি যন্ত্রণা হয় এটা বুঝি না। উনারা যদি কেউ মনে করেন একটা রাজকীয় দল তৈরি করবেন, কবে সেটা হবে, কবে জিতবে তারপরে করবেন? তাহলে এটা তো ভাই গণতন্ত্রের কথা না। আমরা তো শেখ হাসিনার ছায়া দেখতে পাই।
শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, দুবাই পোর্ট ওয়ার্ল্ড না, আল্লাহতালার ফেরেস্তা আসলেও ১৯০ মিটারে বেশি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারবে না, ৯ মিটারের জাহাজ বন্দরে ভিড়তে পারবে না।
গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর বলেন, আমরা জানি না প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগের এই ধরণের কথা বলেছেন কিনা। আমার বিশ্বাস তিনি এরকম কথা বলবেন না। তিনি এতো ইম্যাচুয়েড লোক নয় যে, তিনি বলবেন, পদত্যাগ করব। কিন্তু এটা মার্কেটে ছাড়ল কারা? সমস্ত নিউজে এই বিভ্রান্তি-প্রোপাগান্ডাটা ছাড়লো কারা?