বিলুপ্ত হচ্ছে “র‌্যাব”, পুলিশের বিশেষ ইউনিট হচ্ছে “এসআরবি”

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। এ সময় বিলটি উত্তাপনের বিষয়ে বিরোধী পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভাপতিত্ব করেন স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি আইনের বিলটি উত্থাপনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কামিটিকে যাচাই-বাছাই শেষে আগামী চার কর্মদিবসের মধ্যে সংসদে ফেরত পাঠাতে বলা হয়।

বিলটি উত্থাপনের সময় বিরোধীতা করে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

প্রথমে বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিরোধীতা করে বলেন, র‌্যাব বিচারর্হিভূত হত্যাকান্ডসহ নানা ধরনের অপরাদের সাতে জড়িত। আর্ন্তজাতিকভাবে সমালোচিত হয়েছে। এটি বিলুপ্ত করাই ভালো। নতুন করে নাম পরিবর্তন করে এসআরবি নামে বিল উত্থাপনের কোন প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, ‘র‌্যাব বিলুপ্ত করে এর বর্তমান জনবল দিয়েই নতুন নামে এসআরবি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলে তা মূলত নতুন মোড়কে র‌্যাবকে ফিরিয়ে আনা ছাড়া আর কিছু হবে না। এটি মূলত র‌্যাবের পুনর্গঠনেরই নামান্তর।’

পরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্তির প্রস্তাবকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে নতুন কোনো এলিট ফোর্স বা বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের আগে আরও আলোচনা ও পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সাইবার সিকিউরিটি ফোর্স গঠনের প্রস্তাব এলে তা বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মত দেন তিনি।

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে র‌্যাব বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তাই র‌্যাব বিলুপ্তির যে প্রস্তাব আনা হয়েছে, তিনি সেটিকে সর্বান্তকরণে সমর্থন করেন এবং এই প্রস্তাব আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

র‌্যাবের বিকল্প বা নতুন বাহিনী গঠনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এলিট ফোর্সের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে অথবা নতুন করে যেটাই হোক, এটা গঠনের প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে। তবে, এর আগে আরও আলোচনা ও পর্যালোচনা প্রয়োজন।’

সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাইবার স্পেসে অনাকাক্সিক্ষত কর্মকাণ্ডের শিকার সরকারি দল, বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষ। তাই এ ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তিনি আরও বলেন, ‘হয়তোবা একটা সাইবার সিকিউরিটি ফোর্স আমাদের বিল্ড আপ করা লাগতে পারে। সেরকম ভালো কিছু করলে আমরা অবশ্যই সমর্থন দেব।’

নতুন বাহিনী যেন কোনোভাবেই দমন-পীড়নের হাতিয়ার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে তিনি বলেন, এটি যেন রিপ্রেশনের উদ্দেশ্যে না হয়ে মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়।

র‌্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নতুন বাহিনী গঠনের বিষয়টি নিয়ে আরও চিন্তাভাবনা ও প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘উনারাও আরেকটু চিন্তা করুন, আমরাও একটু চিন্তা করি, আর একটু হোমওয়ার্ক করি।’

জনগণের মনে যাতে কোনো নেতিবাচক ধারণা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, নতুন কোনো বাহিনী গঠন করা হলে জনগণের মধ্যে যেন এমন ধারণা তৈরি না হয় যে কেবল পদ্ধতি বা মোড়ক পরিবর্তন করে একই ধরনের প্রতিষ্ঠান আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার টোটাল কনসেপ্ট যে পরিবর্তিত হয়েছে, সেই নিশ্চয়তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, ‘আমি এটার পক্ষে, কিন্তু সবাই মিলে আমরা করি, কনভিন্স হয়ে করি, আরও একটু হোমওয়ার্ক করে করি।’

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিলটি তাড়াহুরো করে আনা হয়নি। সকল সদস্যদের কাছে কপি পাঠানো হয়েছে। আর কয়েকদিন সময় আছে অধিবেশনের। এর মধ্যেই বিলের রিপোর্টটি আসতে হবে। এক্ষেত্রে দুই দিনের জায়গায় সর্বোচ্চ চারদিন সময় দেয়া য়ায়। এর মধ্যে তারা দেখতে পারবেন।

তখন বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, বিলটি পর্যালোচনার জন্য সর্বোচ্চ সময় দেয়া হোক। যদি এ অধিবেশনে এটি পাস না হয় তবে পরের অধিবেশনে হতে পারে। তবে এ বিলটি ভালোভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

এ প্রেক্ষিতে ডেপুটি স্পীকার বিলটি উত্থাপনের জন্য অনুমতি প্রদান করলে চার দিনের জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হয়।

বিলে বলা হয়েছে, দেশের জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পুলিশ বাহিনীকে সহায়তার জন্য আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন। একইসঙ্গে এ বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা, তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

বিলের ১ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে।

পুলিশের আওতায় বিশেষায়িত ইউনিট

বিলের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘পুলিশ বাহিনীর আওতাধীন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে।’

সরকার প্রয়োজনের নিরিখে পুলিশ বাহিনী, শৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারী পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করবে। ইউনিটের সদর দফতর থাকবে ঢাকায়।

এসআরবি’র একজন মহাপরিচালক থাকবেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হবেন। মহাপরিচালক ইউনিটের প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

যেসব দায়িত্ব পালন করবে এসআরবি

বিলের ১০ ধারায় এসআর-এর দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

“জননিরাপত্তা রক্ষা’, ‘সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন’, ‘বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার’ এবং ‘মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম ও ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।”

এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার দায়িত্বও থাকবে। আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশ অনুসারে এসব অপরাধের তদন্তও করতে পারবে ইউনিটটি।

তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা

বিলের ১২ ধারায় এসআরবি-কে কোনও স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব ক্ষমতা ফৌজদারি কার্যবিধি ও বিদ্যমান অন্যান্য আইনের বিধান প্রতিপালন সাপেক্ষে প্রয়োগ করতে হবে।

১৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘তল্লাশি, আটক, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তার যে ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যাবলি রয়েছে, পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নন—এমন ইউনিটের কর্মকর্তা তা প্রয়োগ করতে পারবেন।’

তবে গ্রেফতার বা আলামত জব্দ করার পর তা এসআরবি-এর কাছে আটকে রাখা যাবে না। বিলের ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, “গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে বা জব্দকৃত আলামত অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করবেন।” একই সঙ্গে এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

ফৌজদারি মামলার তদন্ত করতে পারবে

আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শক যেকোনও সময় এসআরবি মহাপরিচালককে কোনও ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন। মহাপরিচালক পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্ব পদমর্যাদার কোনও সদস্যকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবেন।

তদন্তের সময় ফৌজদারি কার্যবিধি ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে এসআরবি-এর হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকার কথাও বিলে বলা হয়েছে।

সদস্যদের যেসব কাজ শৃঙ্খলা লঙ্ঘন

বিলের ১৭ ধারায় এসআরবি সদস্যদের বিভিন্ন শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কর্তব্যরত অবস্থায় মাতাল বা নেশাগ্রস্ত থাকা, সহকর্মীকে আঘাত বা অসদাচরণ করা, অনুমতি ছাড়া গার্ড, চৌকি বা পেট্রোল ত্যাগ করা, আটক বা গ্রেফতার থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনসংগত আদেশ অমান্য করা রয়েছে।

১৫ দিনের বেশি আটক থাকলে প্রতি ৭ দিনে প্রতিবেদন

কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগ বা আশঙ্কার যৌক্তিক কারণ থাকলে তাকে আটক করার ক্ষমতা রাখা হয়েছে। তবে আটকাদেশ প্রদানকারী কর্মকর্তাকে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং আটক সদস্যকে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে।

শাস্তি হিসেবে বরখাস্ত, অপসারণ, অবসর ও পদাবনতি

এসআরবি সদস্যদের শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের জন্য গুরুদণ্ড ও লঘুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অব্যাহতি, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পদাবনতি, পদোন্নতি বন্ধ, সর্বোচ্চ এক বছরের জ্যেষ্ঠতা বা বেতন-ভাতা বাজেয়াপ্ত এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করার বিধান রয়েছে।

শাস্তির বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল

বিভাগীয় কার্যধারায় দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের আদেশের বিরুদ্ধে মহাপরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালকের কাছে এবং মহাপরিচালকের আদেশের বিরুদ্ধে পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে আপিল করা যাবে। আপিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

অভিযোগ প্রতিকার কমিটিতে মানবাধিকারকর্মী

এসআরবি সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ এবং বাহিনীর সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিরসনে ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

যোগদানের পর বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ

বিলে এসআরবি-এর সব সদস্যের জন্য ইউনিটে যোগদানের পর নির্ধারিত মেয়াদে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। সদর দফতরে একটি গবেষণা সেল থাকবে, যা অপারেশনাল ও তদন্তসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করবে।

র‌্যাবের জনবল-সম্পদ এসআরবিতে স্থানান্তর

আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাব গঠনসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট বিধান রহিত হবে। তবে নতুন বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত র‌্যাবের কোর্ট পদ্ধতি ও বিভাগীয় কার্যধারা বিধিমালা, ২০০৫ প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ এসআরবি’র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকবে।

একই সঙ্গে র‌্যাব-সংশ্লিষ্ট জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে থাকা অর্থ, দায়, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, হিসাববহি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র ও সংশ্লিষ্ট দলিল এসআরবি’র অনুকূলে “তৎক্ষণাৎ স্থানান্তরিত এবং ন্যস্ত বা অর্পিত” হবে।

আইন প্রণয়নের কারণ

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অপরাধের ধরন ও প্রকৃতির পরিবর্তন এবং জাতীয় ও জননিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষায়িত ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতার প্রয়োজন বাড়ছে।

এতে সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ, চরমপন্থা, মানবপাচার ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধসহ গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে একটি আধুনিক বিশেষায়িত ইউনিটের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

বিলে আরও বলা হয়েছে, এই ইউনিটের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে “আইনের শাসন, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা, কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিতা” নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই র‌্যাব-এর পরিবর্তে এসআরবি প্রতিষ্ঠার জন্য এই বিল আনা হয়েছে।

এর আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ আইনের সংশোধনী সংসদে উপস্থাপন করেন।