বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, নিত্যপণ্যের দামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি নির্ধারন করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শ্রমিকদের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে চরম অসামঞ্জস্য বিরাজ করছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে শ্রমজীবী মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

গতকাল শনিবার রাজধানীতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মে দিবসের প্রস্তুতিমূলক অঞ্চল দায়িত্বশীল বৈঠকে তিনি একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক আন্দোলন ও সংগ্রাম কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের জন্য নয়, বরং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে। তবে সরকার দলীয় বিবেচনায় শ্রম আইন সংস্কার করেছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার শ্রম আইন নিয়ে যা করছেন তা শ্রমিকদের স্বার্থের পরিপন্থী। তাই সরকারকে শ্রম বান্ধব আইন তৈরীর পরামর্শ দিচ্ছি।

এডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার শ্রমিকবান্ধব নীতি গ্রহণ করলে সংগঠন সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

বৈঠকে মহান মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন একগুচ্ছ দাবি উপস্থাপন করে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক জাতীয় শ্রমনীতি প্রণয়ন, সর্বজনীন জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা এবং খাতভিত্তিক মজুরি কাঠামো নির্ধারণ। সরকারি ও বেসরকারি খাতে মজুরি বৈষম্য কমানো এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনি¤œ বেতনের ব্যবধান হ্রাসের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের আইনগত সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ, বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য শ্রমজীবী মানুষের নাগালের মধ্যে আনার দাবি জানানো হয়।

পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধ, শ্রমিকদের নিয়োগপত্র প্রদান এবং লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজীকরণের পাশাপাশি কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। বন্ধ সার কারখানা চালু এবং কৃষি উপকরণের মূল্য কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাসে উন্নীত করা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য রেশন, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবাসহ সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মে: তাসলিমের সঞ্চালনায় বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, গোলাম রব্বানী, মাস্টার শফিকুল আলম, কবির আহমেদ, মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলমগীর হোসাইন, আক্তার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক নুরুল আমিন, কোষাধ্যক্ষ আজহার উদ্দীন প্রমুখ।

বৈঠকে নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকবান্ধব নীতি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।