হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর ভাঙনকবলিত বাঁধ দেড় মাসেও পুরোপুরি মেরামত করতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এর মধ্যেই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে নদীর পানি বেড়ে রোববার সকালে মেরামত করা অংশে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনস্থল দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় আশপাশের গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

রোববার সকাল পৌনে ১১টার দিকে কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধের মেরামত করা স্থানে ফের ভাঙন শুরু হয়। এর আগে শনিবার রাতে উজানে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

স্থানীয়রা জানান, গত ৯ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়। তবে দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও মেরামতের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় নতুন করে ঢলের পানি প্রবল স্রোতে লোকালয়ে প্রবেশ করছে।

নদীর পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় আশপাশের গ্রামগুলোতে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য প্লাবনের শঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে খোয়াই নদীর পানি বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কালীগঞ্জে বাঁধের মেরামত করা অংশে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ ও বাঁধের মেরামতকাজ সম্পন্ন করা না হলে নদীর পানি আরও বেড়ে আশপাশের গ্রামগুলোতে ব্যাপকভাবে প্রবেশ করতে পারে। এতে নতুন করে বহু মানুষ পানিবন্দি হওয়ার পাশাপাশি বসতবাড়ি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।