সংগ্রাম ডেস্ক

গার্মেন্টস শ্রমিকের অধিকার, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা,কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ১০ দফা দাবি জানিয়ে আত্মপ্রকাশ হলো ‘গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চ’।

গতকাল রোববার বিকেল ৩টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে-সংবাদ সম্মেলনে সদস্য সোহেল রানা মিঠুর সঞ্চালনায় “গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চের “ ঘোষণা করেন, মঞ্চের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি পোশাক শিল্পে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিক কর্মরত, যাদের বড় অংশ নারী। অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও শ্রমিকরা বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মজুরি ও ক্রয়ক্ষমতার সংকট, চাকরির অনিশ্চয়তা, ছাঁটাই, কারখানা বন্ধ, বেতন-বোনাসে অনিয়ম, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা এবং ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রতিষ্ঠায় নানা বাধার মুখে রয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছেন। একই সময়ে শতাধিক কারখানা বন্ধ ও গণছাঁটাইয়ের কারণে কর্মসংস্থানে বড় সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টস শিল্পের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, চাকরির নিরাপত্তা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দশটি গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চ’ আত্মপ্রকাশ করেছে। সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, গার্মেন্টস দর্জি শ্রমিক কেন্দ্র, সবুজ-বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, জাতীয় গার্মেন্টস-সোয়েটার শ্রমিক ফেডারেশন, মাদারল্যান্ড গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ লেবার কংগ্রেস, বাংলাদেশ গার্মেন্টস টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশন, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

মঞ্চের দশ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নি¤œতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি পুনর্নিধারণ; বন্ধ শিল্প-কারখানা চালু ও বেআইনি শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ; শ্রমিককে কোনো পর্যায়ে কালো তালিকাভুক্ত না করা; শ্রম আদালতে বিচারাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি; প্রয়োজনীয় শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন।

এ ছাড়া গার্মেন্টস শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, মাতৃত্বকালীন ছুটি ন্যূনতম ছয় মাস করা, নারী শ্রমিকের মাতৃত্বকালীন অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ, সাশ্রয়ী আবাসন, চিকিৎসা, পরিবহন, রেশনিং ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

শ্রমিকদের অবাধে সংগঠিত হওয়া, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও যৌথ দর-কষাকষির অধিকার বাস্তবায়ন এবং এ কারণে কোনো শ্রমিককে হয়রানি বা চাকরিচ্যুত না করার দাবিও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর গার্মেন্টস শ্রমিকদের নি¤œতম মজুরি সমন্বয়ের দাবি জানায় মঞ্চ।

দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা, আশুলিয়া, সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম, গার্মেন্টস দর্জি শ্রমিক কেন্দ্রের সভাপতি সাহিদা সরকার, জাতীয় গার্মেন্টস-সোয়েটার শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. রফিক, বাংলাদেশ লেবার কংগ্রেসের সভাপতি শামীমা আক্তার, সবুজ বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন ঠান্ডু,বাংলাদেশ প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি রুজিনা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক কামরুন নাহার বাংলাদেশ গার্মেন্টস টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল বাছিরসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।