মালদ্বীপে শুরু হওয়া চারজাতি ফুটবল টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে মারুফুল হকের দল। কিক অফের পরেই মিলল গোলের সুযোগ, পারল না বাংলাদেশ। গোলের পরিষ্কার সুযোগ প্রথমার্ধে এলো আরও একবার। এবারও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় এগিয়ে যাওয়া হলো না লাল সবুজের জার্সিধারীদের। প্রথমার্ধের দারুণ বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে ঢাকা পড়ল পাকিস্তানের আক্রমণাত্মক ফুটবলে। তবে গোলবারের সামনে অবিশ্বাস্য শ্রাবণে হার এড়ালো বাংলাদেশ। গতকাল সোমবার মালদ্বীপে শুরু হওয়া চারজাতি ফুটবল টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে মারুফুল হকের দল। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরা হয়েছেন মেহেদী হাসান শ্রাবণ। টুর্নামেন্টে এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ।
এদিন খেলা শুরুর প্রথম মিনিটেই গোল পেতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু ডান দিক থেকে নাজমুল হুদা ফয়সালের ক্রসে ছোটবক্সে সৌরভ দেওয়ান টোকা দিলেও বল চলে যায় পোস্টের একটু উপরে দিয়ে। গোল না পেলেও পাকিস্তানের ওপর চাপ বজায় রাখে বাংলাদেশ। এরপর বেশ কয়েকবারই আক্রমণ শানিয়েছেন মুরশেদ, ফয়সালরা। বল পজেশনও ধরে রেখেছেন তারা। তবে ২১ মিনিটে ভালো একটা আক্রমণ নিয়ে বাংলাদেশের বিপদসীমায় ঢুকে পড়েন পাকিস্তানের ওতিস জান মোহামেদ। কিন্তু ডান পোস্টের কোনা থেকে তাঁর কাটব্যাক আলি আকবার খানের কাছে পৌঁছানোর আগেই ঝাঁপিয়ে বল নাগালে নেন গোলকিপার শ্রাবণ।
পাকিস্তানের ওই আক্রমণের সাত মিনিট পর আরও একবার গোল মিস করে বাংলাদেশ। নিজেদের অর্ধ থেকে মানিক মোল্লার বাড়ানো লং বল লেফট উইং দিয়ে ওঠা রাব্বি হোসেন রাহুল মাটিতে নামান। এরপর কয়েক কদম এগিয়ে পাস দেন মুরশেদ আলীর কাছে। কিন্তু ফাঁকায় থাকা এই ফরোয়ার্ড শট নেন কাছের পোস্টে থাকা প্রতিপক্ষ গোলকিপারের শরীর বরাবর। এগিয়ে যাওয়ার ভালো সুযোগটাও হারায় বাংলাদেশ। এই অর্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বাম দিক দিয়ে বক্সে ঢোকার মুখে রাব্বিকে ফেলে দেন পাকিস্তানের ডিফেন্ডার আলী খান নিয়াজ। পেনাল্টির জোরালো আবেদন করে বাংলাদেশ; রেফারি তাতে সাড়া দেননি। তিন মিনিট পর প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে ফয়সালের নেওয়া নিচু শট বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতি থেকে ফিরে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দল। বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ বাড়ায় পাকিস্তান। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে ম্যাচ জমে ওঠে। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও যুদ্ধাংদেহীভাব দেখা যায় এ সময়। মিরাজুলকে ধাক্কা মেরে কার্ড দেখেন আব্দুল্লাহ ইকবাল। ওই ঘটনার রেশেই কিনা ৬১ মিনিটে বাংলাদেশ অধিনায়ক মঞ্জুরুর রহমানকে পুশ করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন পাকিস্তান ডিফেন্ডার সৈয়দ আব্দুল্লাহ শাহ। খানিক পর অবশ্য লাল কার্ড তুলে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। তেঁতে থাকা পাকিস্তান প্রায় এগিয়ে গিয়েছিল ৬৬ মিনিটে। গোলমুখের সামনে আলী হায়দার শাহের সাইড ভলি জাল খুঁজেই নিচ্ছিল, শেষ মুহূর্তে লাফিয়ে উঠে কর্নারের বিনিময়ে ফিস্ট করেন শ্রাবণ। এ সময় টানা কয়েকটা আক্রমণ শানায় পাকিস্তান।
প্রতিপক্ষের কঠিন চাপ সামলে বাংলাদেশও বেশ কিছু আক্রমণ শানায়। ৭৯ মিনিটে গোলের ভালো সুযোগও আসে। এবার আব্দুল্লাহ ওমর দূরের পোস্টে শট না নিয়ে তিনি আড়াআড়ি ক্রস বাড়ান, যদিও পাকিস্তানের এক ডিফেন্ডার এসে বল ক্লিয়ার করেন। পরের মিনিটে আরও একবার বাংলাদেশের এই ফরোয়ার্ড তালগোল পাকিয়ে ফেলেন বক্সে ঢুকে। ৮২ মিনিটে আরও একবার বাংলাদেশকে বাঁচান শ্রাবণ। পাকিস্তানের উইঙ্গার হায়দার শাহের দূরপাল্লার শট অন টার্গেটেই ছিল। বাংলাদেশ গোলকিপার ফিস্ট করে বিদমুক্ত করেন। যোগ কার সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভালো সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেনি পাকিস্তান। তিন মিনিট পর ফাহিম হামিদের গতিময় শট কর্নারের বিনিময়ে ফিস্ট করেন বাংলাদেশ গোলকিপার। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।