সরকার দেশের ৬৪ জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে নোয়াখালী-৫ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের ৬৪ জেলায় ক্রীড়া গ্রাম নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় ক্রিকেটের উন্নয়নের ব্যবস্থাও রাখা হবে।’

এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম অধিবেশনের শুরুতেই প্রশ্নোত্তর পর্ব উত্থাপন করেন।এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, কক্সবাজার জেলায় ‘আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ট্যুরিজম কমপ্লেক্স নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও রাজধানী ঢাকার পূর্বাচলে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার দেশের ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা বিকাশে সমন্বিত নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অতীতে ক্রীড়া অঙ্গনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং একটি টেকসই ক্রীড়া ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ক্রীড়াকে একটি সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক ক্রীড়া কার্যক্রম চালু করা এবং 'নতুন কুঁড়ি' ক্রীড়া কর্মসূচির আওতায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেধাবী খেলোয়াড়দের বৃত্তি প্রদান।

প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সব উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ গড়ে তোলা এবং অবৈধ দখল থেকে বিদ্যমান মাঠগুলো মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যাতে সবাই সহজে ক্রীড়া সুবিধা পায়। 'বিশেষভাবে সুবিধাবঞ্চিত ও ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন, দেশে ক্রীড়া সরঞ্জাম শিল্প গড়ে তোলা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রশিক্ষণ ও প্রতিভা বিকাশ জোরদার করতে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর শাখা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 'কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও জানান, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোতে অস্থায়ী কমিটি গঠন এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এছাড়া, বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন ও সংস্থার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।