রাজধানী ঢাকার বুকে অবস্থিত বুড়িগঙ্গা নদী আজ মরতে বসেছে। বিষাক্ত দুগর্ন্ধে নদীর কিনারায় যাওয়া দুস্কর। অথচ এক সময় এ নদীর পানি মানুষ নিত্য কাজ-কর্মে ব্যবহার এমনকি পান করতেন। সে সময় নদী ভরা মাছ ছিল। সদরঘাট থেকে শ্যামবাজার এবং ফরাসগঞ্জসহ গোটা বুড়িগঙ্গা নদী এখন চর আর চরে ভরপুর। অথচ দক্ষিণাঞ্চলের এ নৌ-পথ সদরঘাট ও বাদামতলী ঘাট থেকে প্রতিদিন শত শত লঞ্চ, স্টিমার এবং পণ্যবাহী কার্গো, শীপ ও নৌকা যাতায়াত করে। অথচ বুড়িগঙ্গা নদীর এ বেহাল অবস্থা এতটাই অবহেলিত যা দেখার কোন মন্ত্রণালয় নেই। নদীর পানি শুকিয়ে কালো হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নিম্নআয়ের লোকেরা এ নদীর পানি ব্যবহার করে বিভিন্ন চর্ম রোগে জর্জরিত। বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ব্যবহার একেবারে অযোগ্য হয়ে পরেছে। নদীতে নেই কোন মাছ, কীটপতঙ্গ। অপরিশোধিত পয়:বর্জ্য, শ্যামবাজারের পচা-গলা তরিতরকারি এবং ক্ষুদ্র শিল্প কল-কারখানার বর্জ্যরে কারণে বুড়িগঙ্গা নদীটি আজ চরম দুষণের শিকার যা রাজধানীর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। মূলত: নদীটি আজ মৃত প্রায়। ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গা নদী। এখনও প্রতিদিন টনকে টন নদীর বিষাক্ত বর্জ্য বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলা হচ্ছে। নদীটির বর্তমান দৈর্ঘ্য ২৯ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্ত ৩০২ মিটার। অথচ এ নদী যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। লাখ লাখ যাত্রী সাধারণ এই বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে যাতাযাত করে। বর্তমানে এ শুকনো মৌসুমে বুড়িগঙ্গার পানি এমনভাবে শুকিয়েছে যার ফলে অধিকাংশ স্থানে লঞ্চ-মার বা পণ্যবাহী কার্গো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। ইতিমধ্যে বুড়িগঙ্গা নদীর অনেক স্থানে চড় পরায় নৌ-চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। শুধু বুড়িগঙ্গা নদী কেন দেশের পদ্ধা, যমুনা, শীতালক্ষাসহ সকল নদীতে চর আর চরে ভরপুর ।

ঢাকার বুড়িগঙ্গাসহ উল্লেখযোগ্য যোগাযোগ মাধ্যম জলপথগুলোর এ অবস্থার উন্নয়ন জরুরি হয়ে পরেছে। সরকারের খাল খননের পাশাপাশি নদী খনন করার গুরুত্ব বহন করে। প্রথমত: বুড়িগঙ্গা নদীর পানি প্রবাহ যাতে বৃদ্ধি করা যায় সে বিষয়ে সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা যথার্ত কার্যকর করা এবং দ্বিতীয়ত সারা বছর নৌ-পথে ডেজিং চালিয়ে পলি পড়তে বাধার সৃষ্টি করা অর্থাৎ সারা বছর যাতে ডেজিং এর মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা নদীসহ সকল নৌ-পথগুলো সচল রাখা যায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নৌ-পথ এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। নৌ-পথের নাব্যতা রক্ষা না হলে সাড়া দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বাধাপ্রাপ্ত হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কেন না দেশের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সাথে নৌ-পথের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। এ ব্যবস্থা চালু রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে অনেক সুফল পাওয়া যেতে পারে। যেমন নদীর গতি প্রকৃতি লক্ষ করে শুধুমাত্র যে পথ দিয়ে নৌ-যান চলাচল করবে সে পথটুকুতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি রাখা। পানি থাকবে সে পানিকে একত্রিত করতে পারলে যান চলাচলের পথটি সচল রাখা সম্ভব। এ বিষয়ে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। বুড়িগঙ্গা নদীসহ দেশের সকল নদীগুলোর নৌ-পথসমূহ সাড়া বছর নাব্য রাখতে আধুনিক প্রযুক্তি অভাব হবার কথা নয়। দেশের স্বার্থে বিষয়টি সরকারকে ভেবে দেখা দরকার।

-মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী, গণমাধ্যমকর্মী।