বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের একটি বড় অংশের জন্য এখনো আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। বিশেষ করে ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে সয়াবিন তেল প্রধান, যার কাঁচামাল বা তেল মূলত আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়েসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসে। একইভাবে চিনি, ডাল ও চালের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সময়ে আমদানির প্রয়োজন দেখা দেয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট কিংবা বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সরাসরি দেশের বাজারে প্রভাব ফেলে।

সরকারের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) নিম্নআয়ের মানুষের জন্য প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে চাল, ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেল সরবরাহ করে। প্রশ্ন হলো, এসব পণ্যের অন্তত একটি বড় অংশ কি ধীরে ধীরে দেশীয় উৎপাদন থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়?

বাংলাদেশের কৃষি খাতের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবার সুযোগ রয়েছে। দেশে সরিষা, ধান, আখ ও বিভিন্ন ধরনের ডালের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে সরিষার চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে দেশীয় ভোজ্যতেলের জোগান বৃদ্ধি পেতে পারে। যদিও সয়াবিন তেলের পুরো বিকল্প হিসেবে সরিষার তেল ব্যবহার করা বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে, তবু দেশীয় ভোজ্যতেলের অংশ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে সরকারের খাসজমি উৎপাদনমুখী ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় আনা যেতে পারে। স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের ১ থেকে ৫ বছরের জন্য খাসজমি ইজারা দিলে অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসবে, অবৈধ দখল কমবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

একই সঙ্গে সরকার কৃষকদের উন্নত বীজ, সেচ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, সংরক্ষণ সুবিধা এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারলে দেশীয় উৎপাদন আরও বাড়বে। এতে টিসিবিও প্রয়োজনীয় পণ্যের একটি অংশ দেশের কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারবে। এর ফলে কৃষক লাভবান হবেন, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং খাদ্যনিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সব ধরনের খাদ্যপণ্যে শতভাগ আত্মনির্ভরতা অর্জন সহজ নয়। তবে পরিকল্পিত কৃষিনীতি, কার্যকর বাজারব্যবস্থা এবং দেশীয় উৎপাদনে ধারাবাহিক বিনিয়োগের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। দেশের কৃষি ও কৃষকের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরতার এই পথেই এগিয়ে যাওয়া সময়ের দাবি

-ছৈয়দ রহিম উদ্দিন, সার্ভেয়ার।